জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে,প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু।১৯৮৫ সালে গ্রন্থাগারের মূল ভবনের কাজ শুরু হয়,নির্মাণ কাজ শুরু করার সময় এর আয়তন নির্ধারণ করা  হয়েছিল এক লক্ষ হাজার বর্গফুট কিন্তু নির্মিত হয়েছে ৫৫ হাজার বর্গফুট বাকি রয়েই গেছে ৪৫ হাজার বর্গফুট যার আজ অবধি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।চার দশকেও গ্রন্থাগারটি পায়নি আধুনিকতার ছোয়া,নেই অভিজ্ঞ গ্রন্থাগারিক,আসন সংখ্যার স্বল্পতা,বইয়ের স্বল্পতা,যাতায়াতের সমস্যা,অযত্ন অবহেলায় বই,বিদ্যুতের সমস্যা,শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।
এর পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন ভবন, কিন্তু গ্রন্থাগারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীরা গ্রন্থগারের প্রতি প্রশাসনের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন এবং তারা আরো বলছেন যে শিক্ষকরা তাদের রাজনৈতিক দিক নিয়ে খুব সচেতন কিন্তু গ্রন্থাগার নিয়ে সচেতন নয়। এছাড়াও ঢাকা,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কিন্তু সেটা কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।
গ্রন্থাগারটিতে প্রায় এক লক্ষ বই আছে কিন্তু তা প্রযোজনের তুলনায় অপ্রতুল।এছাড়াও নতুন বিভাগগুলোর জন্য নেই পর্যাপ্ত বই,পুরোনো বিভাগগুলোর জন্য নেই পর্যাপ্ত বই। বিশেষ ভাবে তাগিদ দিয়েও ক্রয় করানো যাচ্ছে না অতিরিক্ত বই। ছাত্র ছাত্রীরা সকাল-বিকাল বইয়ের জন্য গেলেও কাঙ্খিত বইয়ের দেখা মেলে না। অর্থাৎ আকাশের চাঁদ হাতে পাবার মতো অবস্থা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, অনেক শিক্ষক সিলেবাসভিত্তিক বই নেয়ার পর তা যথা সময়ে জমা দেন না। অনেক শিক্ষার্থী আবার শিক্ষকের নাম ভাঙিয়ে বই ইস্যু করে পরে তা আর ফেরত দেন না। ফলে বিভিন্ন সময়ে বিপাকে পড়তে হয় জ্ঞান-পিপাসু শিক্ষার্থীদের।
এছাড়াও অভিজ্ঞ গ্রন্থাগারিক এর অভাব রয়েছে যারা  ঠিকমত বই এর রক্ষণাবেক্ষন করতে পারে না ,রেফারেন্স নিয়ে বই খুজতে বিলম্ব করেন। গ্রন্থাগরে নেই ডিজিটালের ছোয়া। শুধুমাত্র ইংরেজি বই গুলোকে কম্পিউটারের মাধ্যমে খুজে পাওয়া যায় কিন্তু বাংলা বইগুলোকে খুজতে হলে মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতে হাতড়িয়ে মরতে হয় সারাদিন।
এমফিল,পিএইচডি সহ প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে গ্রন্থাগারটিতে সিট রয়েছে মাত্র ২৭৫টি। প্রতি আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী ৫১ জন।,মাথাপিছু আসন দাড়ায় প্রায় প্রতি ৫১  জনের জন্য একটি। কেউ কেউ আসনে বসে পড়ার জন্য আগে থেকে বই খাতা রেখে আসন দখলে রাখে।এছাড়াও আসন নিয়ে হাতাহাতির মত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বহুবার।
গ্রন্থাগারের বই কেনার জন্য টাকা বরাদ্দ হলে সেই টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে হয় কর্মচারীদের বেতন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বই কেনার জন্য বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় এক লক্ষ টাকা কিন্তু কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার পর অপর্যাপ্ত কিছু টাকা ছিল যা দিয়ে পর্যাপ্ত বই কেনা ছিল একেবারেই অসম্ভব।
শিক্ষার্থীরা জানান, বাথরুমের অধিকাংশ বেসিনই ভাঙ্গা,শৌচাগার  দুই তিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও ঠিক করা হয় না। নেই মুখ দেখার আয়না, পানির কল নষ্ট। দেয়াল ও মেঝের মোজাইকে শ্যাওলায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যে একটি আইপিএস আছে তাও অধিকাংশ সময় বিকল থাকে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
কামালউদ্দিন হল,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মাওলানা ভাসানী হল ও শহীদ রফিক-জব্বার হল থেকে গ্রন্থগারে আসার জন্য রয়েছে তিনটি রাস্তা,যার একটি রাস্তাতে শুধুমাত্র ইট বিছানো আছে কিন্তু রাস্তায় ইট খুজে পাওয়া দুস্কর। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় কাদা জমে আসতে হয় অনেক পথ ঘুরে।
এছাড়াও কিছুদিন আগে বিক্রির সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে ৭ হাজার ৬ শত ৮৮ কপি বই আটকে দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা, বই বিক্রি বাবদ ৫৪ হাজার টাকা নেয়া হয়েছিল। গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত বই না রাখাতে পারার অযুহাত দিয়ে বই গুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
গ্রন্থাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আলী রেজাকে এ বিষয়ে জানার জন্য একাধিক বার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি।
[b]জাবি, ১২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]