রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন কর্মসূচি ও র্যালিবের করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শিক্ষক সমিতি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি জনাব মেহেদি মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান।
অহিদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, একজন বিনম্র শিক্ষক ছিলেন রেজাউল করিম সিদ্দিকী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কোনো শত্রুছিলো না। কোনো দল-মত ছিলো না। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। জঙ্গীরা নানা জায়গায় এমন গুপ্ত হত্যা চালাচ্ছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষক। আমরা স্বাধীন চিন্তা করবো, আরো বেশি গবেষণা করবো।
ড. অহিদুজ্জামান বলেন, ৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে এ দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটেছিল। দেশবিরোধীদরে সে ষড়ন্ত্রের বীজ আজো বাংলা মাটিতে রয়ে গেছে। কিন্তু বাংলার মানুষ দুর্জয়। তারা ধর্মভীরু, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়।
উপাচার্য মহোদয় আরো বলেন, আজকে আমেরিকা ও পশ্চিমারা জোর করে ‘বাংলাদেশে আইএস আছ’ এমন একটি মিথ্যা প্রচার করছে। তারা বলতে চাচ্ছে, বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের একটা অংশ আইএস ও তালেবান দখল করে আছে। পশ্চিমা শক্তি নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের কৌশল হিসেবেই এমন প্রচারণা চালাচ্ছে।
নোবিপ্রবি উপাচার্য ড. অহিদুজ্জামান বলেন, দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। কিন্তু তারা কোনোদিন সফল হবে না। আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে আজ ঐক্যবদ্ধ। সবাই মিলে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।
নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মেহেদি মাহমুদুল হাসান বলেন, ইতিপূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আহ্বান জানাই।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য ড. আবুল হোসেন, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শফিকুর রহমান, ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের প্রভোস্ট ড.মোহাম্মদ ইউছুফ মিঞা, ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জাহাঙ্গীর সরকার প্রমুখ।
এমআইএস





