গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুদের  সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহন করতে আসা ভর্তিইচ্ছু শিক্ষর্থীরা নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক র‌্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

এতে চরমভাবে বিব্রত হচ্ছেন অভিভাবকরাও। এমনও অভিযোগ পাত্তয়া যায় যে, সাথে আসা বাবা-মায়ের সামনে থেকে ডেকে নিয়েও র‌্যাগ দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় উশৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন সাংবাদিকও তাদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার সাক্ষাৎকারের শেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে ভর্তিইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ দিচ্ছিল বাংলা বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুদ্দিন রাসেল, মোঃ আলিম, আহাদসহ তার বন্ধুরা। এই সময় র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদ করায় এবং ছবি তুলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্যরত সাংবাদিক নাজমুল সবুজ এবং তানভীর সাবিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তাদের কাছে থাকা মোবাইল কেড়ে নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে র‌্যাগিং এর ছবি জমা দেয়ার কথা বললে, প্রক্টর আমাকে কি করবে বলে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করে অভিযুক্ত রাসেল। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড.মোহাম্মদ আহসান উল্যাহ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনা প্রকট আকার ধারণ করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আইনুল হক রাসেলসহ অভিযুক্তদের প্রক্টরের অফিসে ডাকেন। তারা র‌্যাগ দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদর সাথে দুর্বব্যবহার করেছে বলে স্বীকার করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় সাংবাদিকদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া  মোবাইল  উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত দুই দিন নুসরাত জাহান শিপা (বাংলা, ১০ম ব্যাচ) নামের এক ছাত্রী ভর্তিইচ্ছু শিক্ষার্থীদের চরম মাত্রায় র‌্যাগ দেয়। যা ভিডিও রেকর্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ দিকে সাংবাদিকদের দেখে নিবে বলে হুমকিও প্রদান করে মোঃ আলিম।

এ সকল বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রক্টর মো আইনুল হক বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিপূর্বেও কঠোর ছিল। এখনও আছে। যারা র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আর সাংবাদিক লাঞ্ছনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। আমরা এ বিষয়টি কঠোরভাবে দেখব এবং লাঞ্চনাকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করবো।’

কুতুব উদ্দিন/এআই