১৯৭১ এ আমরা অনেকে পাক হানাদার বাহিনী থেকে রক্ষা পেতে ফোক তথা সাধারণ জনগোষ্ঠীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এ ফোকই মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করে দেশকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে।

আমাদের সন্তানদেরকে যদি শিশু অবস্থা থেকেই ফোকলোর চর্চা শেখাতাম তাহলে কেউ জঙ্গী হতো না। এজন্য ফোকদের নিয়ে গবেষণার জন্যই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগ খোলার পাশাপাশি ব্যাপক হারে ফোকচর্চা থাকতে হবে। কারণ ফোকলোর চর্চার মাধ্যমেই এদেশ থেকে জঙ্গীবাদ নির্র্মূল সম্ভব।’

শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে এসব কথা বলেন রাবির সাবেক উপাচার্য ও ফোকলোর বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর আব্দুল খালেক।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটা জাতির সংস্কৃতি থাকে। কেননা স্বাধীন বাংলাদেশ ও আমাদের জাতি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। বাইরে যাদি আমাদের সংস্কৃতি পাঠতে হয় তাহলে আমাদেরকে লোকসংগীতকেই পাঠাতে হবে। কেননা লোকসংগীতই বিশ্বে শ্রেষ্ঠ সংগীত। তাই যারা ফোকলোরকে অবহেলা করে তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিই জানে না। এক সময় দেখা যাবে যে,লোকসংগীত ব্যাতীত কোনো উৎসবই হচ্ছে না।

এজন্য সরকারের কাছে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর খোলার দাবি জানাচ্ছি। তবে যদি এ বিভাগ নাও খোলা হয় তাহলে অন্তত একশত নম্বরের ফোকলোর বিষয়ক একটি কোর্স রাখা দরকার।’

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান। অনুষ্ঠানে বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষর্থী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভাগের সামনে থেকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর বের হয় আনন্দ র‌্যালি। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনের সামনে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আশিক/এআই