পয়লা বৈশাখে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নাজেহাল হয়েছেন বেশ কিছু নারী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় অবস্থানের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। একই সঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছে তারা।

একই সঙ্গে ঘটনার সময় ওই এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক। তিনি বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) ৩০-৩৫ জন যুবক প্রকাশ্যে নারীদের যে যৌন হয়রানি করেছে সেটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে ফেলে। এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা এগিয়ে গেলে সংগঠনের ঢাবি সভাপতি লিটন নন্দী, রমনা থানার সাধারণ সম্পাদক অমিত দেসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই যুবকদের হামলায় আহত হন।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে জানালে তারা একে অপরের ওপর দায়ভার চাপানোর চেষ্টা করছেন দায়সারা বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে। টিএসসি ও মিলন চত্বরে টহলরত পুলিশের অবস্থানের কাছাকাছি জায়গায় এ ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশের কন্ট্রোল রুম ও সিসি ক্যামেরা ছিল। তা সত্ত্বেও পুলিশ ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে। আমরা অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।’

এর আগে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও ছাত্র ইউনিয়ন পৃথক পৃথক ব্যানারে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার মধুর ক্যান্টিনে এসে শেষ হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বর্ষবরণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ২৫-৩০ জন যুবক মিলে তিন নারীকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে। এ সময় তারা কারো কারো শাড়ি ধরেও টান দিয়েছিল। কেউ কেউ আবার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেওয়ার চেষ্টাও করে। এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করলে যুবকরা তাদের ওপর আক্রমণ করে। পরে পুলিশের লাঠিপেটা ও যৌন হয়রানিকারীদের আক্রমণে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখা সভাপতি লিটন নন্দীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলী বলেন, ‘পুলিশকে বলা হয়েছে জড়িতদের খুঁজে বের করতে। এ ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আশপাশের কয়েকটা থানায় তাদের ফুটেজ দেওয়া হবে।’

তিনি ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে বলেছিলাম, বিকাল ৪টার মধ্যে উদ্যানের গেট বন্ধ করে দিতে। কিন্তু সেটা করা হয়নি।’

কেএইচ