অসদুপায় অবলম্বন ও জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে সম্মান প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় দিনের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বহিষ্কারের পর তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সোমবার ‘এফ’ ইউনিটের (জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ) অবিজ্ঞান গ্রুপের পরীক্ষা চলাকালে বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের ৩৫৩ এবং ৪১৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
আটক তিন শিক্ষার্থী হলো, নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার নাজমুল হুদা, চাঁদপুর জেলার লুৎফর রহমান এবং রাজশাহীর দুর্গাপুরের মিজানুর রহমান।
লুৎফর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালীন লুৎফর রহমান প্রশ্নপত্রে উত্তর চিহ্নিত করে নাজমুলকে সরবরাহ করছিল।
এসময় পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত পরিদর্শক বিষয়টি দেখে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের কাছে সোপর্দ করেন।
অন্যদিকে মিজানুর রহমানের রেজিস্ট্রশন কার্ডে শিক্ষা বোর্ডের স্বাক্ষরহীন ছবি দেখতে পান হলে দায়িত্বরত পরিদর্শক।
পরে যাচাই করে সেটি ভুয়া ছবি চিহ্নিত হওয়ায় জালিয়াতির অভিযোগে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পরে আটককৃতদের ভর্তি পরীক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে নিয়োজিত ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে সোপর্দ করে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করেনি উল্লেখ করে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মর্তুজা আল মুইদ বলেন, উত্তর সরবরাহ করার ঘটনাটি মোবাইল কোর্টের সামনে ঘটেনি।
এমনকি প্রমাণ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে যা দেয়া হয়েছে সেটি যথেষ্ঠ নয়। এজন্য এ প্রমাণের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, রেজিস্ট্রশন কার্ডে শিক্ষা বোর্ডের স্বাক্ষরহীন ছবি ব্যাপারে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার এখতিয়ার মোবাইল কোর্টের নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও জালিয়াতির অভিযোগে তিনজনকে পরীক্ষা বহিষ্কার করা হয়েছে।
নাজমুল ও লুৎফর নামের ওই দুইজন পরীক্ষার্থীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট মনে করে ছেড়ে দেয়া হবে।
আর মিজানুর রহমান নামের ওই শিক্ষার্থীকে সময় দেয়া হয়েছে। তার ছবির ব্যাপারে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকেও ছেড়ে দেয়া হবে।
অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যাবস্থা নিবেন বলে উল্লেখ করেন রাবি প্রক্টর।
এআর





