নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবীকে অপসারণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা থেকে এ দাবি জানান। দিবসটি উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মঙ্গলবার আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে। প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ড. সাইদুল হক।
রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে আলোচকরা উপাচার্যের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষার দূত মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যেখানে পিছিয়ে পড়া সমাজের বৈষম্য নিরসন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজন্ম মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে গেছেন, সেখানে তার নামে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়ে স্বেচ্ছাচার ও একনায়কতন্ত্রের রাজত্ব কায়েম করতে মুক্তবুদ্ধির চর্চা রুদ্ধ করে যাচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক নূর-উন-নবী।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা, সহকারী অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিউল আজম খানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রোকেয়া দিবস-২০১৪ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় বর্ণাঢ্য একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর স্বাধীনতা স্মারক স্তম্ভের পাদদেশে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদের সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম নূর-উন-নবী। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে পালিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থীরাও একটি শোভাযাত্রা বের করেন। হলের আয়োজনে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে।
দিনটি উপলক্ষে ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে হল কর্তৃপক্ষ। হলের সকল শিক্ষার্থী একটি করে বই দান করেন তাদের হলের গ্রন্থাগারে। এ ছাড়া সন্ধ্যায় স্বাধীনতা স্মারক স্তম্ভ এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হবে।
জেআই





