বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি তালিকায় দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে তালিকায় অবস্থান শেষের দিকে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, গুণগত শিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণা বাদ দিয়ে শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতিতে মনোনিবেশ করাই এর অন্যতম কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও মৌলিক ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারনে প্রতিবছরের মতো এবারও সেরা ২০০০ এর তালিকা তৈরি হয়েছে। ৬ জুন যুক্তরাজ্যভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন-টিএইচই এর তালিকায় শীর্ষে অক্সফোর্ড। আর ৮ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং-সিডব্লিউইউআর এর সেরার মুকুট যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ডের।

টিএইচই-এর তালিকায় আছে ভারতের ৫৬, পাকিস্তানের ১৪, শ্রীলঙ্কার ২ ও নেপালের ১টি বিশ্ববিদ্যালয়। আর সিডব্লিউইউআর এর তালিকায় ৬৪ ভারতীয়, ১০ পাকিস্তানি, ২ শ্রীলঙ্কান। দুই তালিকাতেই দেশের একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে অবস্থান শেষের দিকে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে উচ্চতর গবেষণার পরিমান, শিক্ষার মান, পরিবেশ, প্রকাশনা, বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংখ্যার নানান সূচক নির্ধারিত করে র‍্যাঙ্ক।

দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ৫১টি রিসার্চ সেন্টার থাকলেও চলমান গবেষণার সংখ্যা মোটে ৪৪টি। আন্তর্জাতিক গবেষণা সমঝোতা আছে মাত্র ৩১৩ টি, যার বেশ কয়েকটির কার্যক্রম স্থগিত। একমাত্র প্রকাশনী থেকে এ পর্যন্ত বই বেরিয়েছে মাত্র ১৭৪টি। জার্নাল আছে মাত্র ১৬টি। বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংখ্যা শূণ্যের কোটায়। এই দুরবস্থার কথা স্বীকারও করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য।

বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে প্রবীণ শিক্ষাবিদ দুষছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণার পরিবর্তে দলীয় রাজনীতিতে শিক্ষকদের জড়িয়ে পড়াকে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

এএস