আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কোনো কর্মসূচি থাকছে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘দাবি-দাওয়ার জন্য ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এ সময়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি থাকছে না। ভর্তি পরীক্ষা, ক্লাস সবকিছুতে আমরা যথারীতি অংশ নেব। তবে দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলবে।’
মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে দাবি-দাওয়া নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সমিতির সভাপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যদি দৃশ্যমান কিছু না হয়, তাহলে ১ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে। দাবি-দাওয়া নিয়ে আমরা প্রায় ৬ মাস ধরে আন্দোলন করছি। কিন্তু সমাধান হয়নি। এ কারণে আমাদের ওপর কঠোর কর্মসূচির জন্য শিক্ষকদের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে।’
পৃথক বেতন কাঠামো প্রবর্তন ও অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে গ্রেড সমস্যা নিরসন এবং শিক্ষকদের পদবিসহ বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে বিকালে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তার সভাকক্ষে বৈঠকে বসেন আন্দোলনরত শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। বৈঠকে দেড় ঘণ্টা আলোচনা হলেও শিক্ষকদের সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষকদের পাঁচ দফা দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় তিনি শিক্ষকদের মান-মর্যাদা রক্ষায় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন শিক্ষা পরিবারের সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে নেতাদের আশ্বস্ত করেন। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামালসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি সরকার আমলে নিয়েছে। এ জন্য বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই এ কমিটির সভা হবে। সেখানে শিক্ষকদের এ দাবির বিষয়টি যাতে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা যায়, সেজন্যই আজ আমরা আলোচনা করেছি। আলাদা বেতন কমিশনের বিষয়টিও আমি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব।’
তিনি বলেন, ‘খুবই আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা পরিবারের সদস্য হিসেবে সম্মানিত শিক্ষকদের মান-মর্যাদা রক্ষায় আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সরকার তাদের মান-ইজ্জতের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষককদের দাবি-দাওয়া আমি বুঝে নিয়েছি। সেই সঙ্গে তারা ভর্তি পরীক্ষাসহ স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখবেন বলেন আশ্বস্ত করেছেন। অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পরই কমিটির বৈঠকে আমি বিষয়গুলো তুলে ধরব। আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হবে।’
শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আন্তরিক পরিবেশে আমরা সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা করেছি। সরকারকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এরপরও যদি সমাধান না হয় তাহলে আমরা কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। স্পষ্ট করে বলতে চাই, বেতন-ভাতার জন্য নয়, আমরা পদবি, মান-মর্যাদার জন্য আন্দোলন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতি মেনেই শিক্ষকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো, কনসালটেন্সিসহ অন্যান্য কাজ করছে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার আইন লংঘন করছে না। অথচ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভুল বোঝানো হচ্ছে।’
ফরিদ উদ্দিন আরো বলেন, ‘স্যার (শিক্ষামন্ত্রী) আমাদের শিক্ষা পরিবারের সদস্য। আমাদের শিক্ষকদের অভিভাবক। আমরা সব বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করে সন্তুষ্ট হয়েছি। আশা করি, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সমাধান হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী অনুরোধ করেছেন স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য। তাদের প্রতি সম্মান রেখে এ মাসে (অক্টোবর) কোনো কর্মসূচি রাখিনি।’
ফেডারেশনের মহাসচিব মাকসুদ কামাল বলেন, ‘আমরা অক্টোবরের মধ্যে কোনো সমাধান না পেলে ১ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাব।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি নিয়ে আমাদের আপত্তি থাকলেও তার অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য আমাদের আহত করেছে। এজন্য আমরা কমিটির ৬ জন মন্ত্রীকে চিঠি দিলেও অর্থমন্ত্রীকে দেইনি। কারণ একটি দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে শিক্ষকদের সম্পর্কে এমন বক্তব্য কাম্য ছিল না।’অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে শিক্ষক সমাজের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কেএইচ





