ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অধীনে ফাযিল ও কামিল মাদরাসার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত সেকশনের চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যস্থাপনা উত্তরোণের দাবিতে ভিসিকে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষকরা।

শনিবার দুপুর ১টা থেকে প্রশাসনিক ভবনে তার কার্যালয়ে শতাধিক শিক্ষক তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখে।

জানা গেছে, সারাদেশের প্রায় ১৫শ’ ফাযিল ও কামিল মাদরাসার পরিচালনার জন্য পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয় এ সেকশনটি। কিন্তু র্দীঘ দিন ধরে সেলটিতে চলছে লাগামহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যস্থাপনায়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সেলটির প্রায় ২৬ কোটি টাকা রয়েছে। আর সেটিও ভাগবাটোয়ারা করে খাওয়ার জন্য কিছু অসাধু শিক্ষক ও কর্মকর্তা উঠে পড়ে লেগেছে অভিযোগ একাংশ শিক্ষাদের।

ফলে এ সেকশনটি বর্তমানে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। টাকা ছাড়া একটি ফাইলও সাক্ষাত হয়না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও এ মাদরাসা সমূহের অধিভূক্তি, নবায়ন, পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ, মাদরাসায় নিয়োগ, তদন্ত টিম প্রেরণসহ প্রতিটি কাজেই এ সেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসছে।

সেকশনটিতে কারা এ দুর্নীতি করছে, কিভাবে করছে তা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বার বার ফলাও করে প্রচার হলেও আজ পর্যন্ত এ দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ মাদরাসা সেলের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভিসিকে এ বিষয়ে বারবার বলা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

তবে শনিবার বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির একটি জরুরি মিটিং বসে। মিটিং শেষে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম তার নিজ কার্যালয়ে গেলে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষকরা। এসময় প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন ভিসি।

শাপলা ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরেফিন বলেন; মাদরাসা সেলে যেভাবে লাগামহীন দুর্নীতি চলছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এবং আমাদের এ দাবি না মানা হলে আগামী দিনে আরোও কঠোর আন্দোলনের দিকে যাওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক- প্রফেসর ড. হারুন-অর-রাশিদ আশকারী বলেন, এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে সেলের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য।

কেএইচ