ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বুধবার এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

পূর্বঘোষণা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া না হলে ২০১৪ ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে এই দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

নটরডেম কলেজ থেকে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা জনি হাসান রাজু জানান, ‘যাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সামর্থ্য আছে তারা ভর্তি হয়ে গেছে। আর আমাদের মতো যাদের সমর্থ্য নেই তারাই রাস্তায় আছি। ঢাবি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বুয়েটের উদাহরণ দিচ্ছে। কিন্তু বুয়েটে যখন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঢাবি কর্তৃপক্ষ আগে থেকে না জানিয়েই হঠাৎ করে এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি যদি দুই বছর পর সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু পূর্বঘোষণা ছাড়া পরীক্ষার সুযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে অনেক ছাত্রের জীবন হুমকির মুখে পড়বে।’

আন্দোলনের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা আইনি লড়াইয়েও যেতে পারি। সামনে কি হবে তা বলতে পারছি না। তবে যতদিন দাবি মানা না হবে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী এই সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বলেন, ‘ঢাবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বর্তমানে স্বেচ্ছাচারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ছাত্রদের অধিকারের কথা না ভেবে স্বেচ্ছাচারীভাবে মনগড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপনাদের আন্দোলনের পাশে আছি সবসময়। এ আন্দোলনের মাধ্যমে ঢাবি কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত বদলে বাধ্য করা হবে।’

ইউনিভার্সিটি অব ল্যাবরেটরি কলেজ থেকে পাস করা ইমতাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৪ অক্টোবর থেকে ঢাবি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় আগামী বছর থেকে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ থাকছে না। এরপর ১৭ অক্টোবর থেকে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন করে আসছি। ২১ অক্টোবর ভিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছি। ১২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বরাবরও স্মারকলিপি দিয়েছি। এরপর ১২ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করলেও এখনো আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। তাই আজ আমরা আবার একই দাবিতে প্রেস ক্লাবে সমবেত হয়েছি।’

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, সবাই হয়ত দ্বিতীয়বারেও ঢাবিতে চান্স পাবে না। তবে ঢাবি কর্তৃপক্ষ যে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে এবং তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জেআই