হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে এই সংঘর্ষ।
সংর্ঘষে আহত ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অরুন কান্তি রায় সিটন, মো. হাবিব, মো. সিফাত হোসেন, অন্তু, রানা, মো. জাকারিয়াকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আট রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা শহীদ তাজউদ্দীন হল, জিয়া হল, শেখ রাসেল হলসহ কয়েকটি হল ভাঙচুর করেছে। এ সময় ক্যাম্পাসে দুটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। ক্যাম্পাসে বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হাবিপ্রবির শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় বক্তব্য রাখেন— প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. বলরাম রায়, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের কার্যকরী পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. এ টি এম সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এরপর দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখার আহমেদ রিয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক ও বহিষ্কৃত ছাত্র অরুন কুমার রায়ের নেতৃত্বে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে একটি মানববন্ধন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আহমেদ নয়নের নেতৃত্বে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা পাল্টা একটি মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করে।
এতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সশস্ত্র সংঘর্ষ বেধে যায়। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা শহীদ তাজউদ্দীন হল, জিয়া হল, শেখ রাসেল হলসহ কয়েকটি হল ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আট রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ টি এম সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস করার পক্ষে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন করছিল।
এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অরুন কান্তির নির্দেশে মানববন্ধনে হামলা চালানো হয়। রিয়েল ও অরুন কান্তিসহ চারজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখার আহমেদ রিয়েল বলেন, ‘শিক্ষকদের ইন্ধনে কতিপয় কর্মচারী এবং ছাত্র বহিরাগতদের নিয়ে আমারদের কর্মসূচির ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১৫ জন কর্মী আহত হন।
কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড টিয়ারশেল এবং পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়।’
উল্লেখ্য, ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে গত ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। দীর্ঘ এক মাস ১২ দিন পর গত ১১ জানুয়ারি খুলে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হল। ওইদিন কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবার আগেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয় হাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর একটি গ্রুপ শিক্ষকদের পক্ষে অবস্থান নেয়।
জেআই





