রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানসম্মত সেবা না পাওয়ার নানা অভিযোগ তুলেছেন একাধিক গ্রাহক। বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকের সাথে দুব্যর্বহার করা ও কাজ করার নামে বার বার ঘোরানোর অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা একাধিক গ্রাহক।
অভিযোগকারী রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন,‘রাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটি্িটউড (আইইইআর) থেকে পিজিডিএড ও এমডি পরীক্ষা পাশের সাময়িক সনদপত্র উত্তোলনের জন্য রাবি অগ্রণী ব্যাংক থেকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুটি পে-অর্ডার করি।
কিন্তু আইইইআর কর্তৃপক্ষ পে-অর্ডারে পরিবর্তে বিবিধ জমা রশিদে টাকা জমা দিতে বলে। ফলে ঐ পে-অর্ডারের প্রয়োজন নেই। তাই আমি প্রদানকৃত টাকা ফেরতের জন্য লিখিত আবেদনের মাধ্যমে ব্যাংকে যোগাযোগ করি। কিন্ত বেশ কয়েক দিন থেকে টাকা ফেরত না দিয়ে আমাকে বার বার ঘোরানো হচ্ছে।’
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি ঐ টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আসলে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা লিখিত আবেদনের উপর মিসেস জোবাইদা বেগমকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্ত জোবাইদা বেগমের ডেস্কে গেলে জানা যায় তিনি ছুটিতে আছেন।’
একইভাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, ভাংতি নোট না দেওয়া, বিভিন্ন অজুহাতে ব্যাংক কার্যক্রম বন্ধ রাখা, গ্রাহকদের সাথে দুর্ব্যবহার করা ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
তাছাড়াও ভর্তি ও ফরম-ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন ধরে থাকতে হলেও সে দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না কিছু ব্যাংক কর্মকর্তারা। ফলে প্রতিনিয়ত গ্রাহকের সাথে বাকবিতন্ডা লেগেই যাচ্ছে কর্মকর্তাদের। এভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ গ্রাহকরা।
এ বিষয়ে ব্যাংকের ম্যানেজার রাবি শাখা অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এর সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিরেন্দ্র নাথ পাল বলেন, আমি এবং যোবাইদা ছুটিতে আছি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। যদি এমন সমস্যা হয়ে থাকে তবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) গ্রাহককে ব্যাংকে দেখা করার জন্য বলেন। এমন যদি হয়ে থাকে তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ধারার অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ১৯৬৫ সালের এপ্রিল মাসে স্থাপন করা হয়। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ১২ হাজারেরও অধিক। এই অধিক সংখ্যাক গ্রাহক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে যাবতীয় অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
ওএফ





