ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়ি চালক মিলন ও সহযোগী রনিকে পিটিয়ে মারাত্তকভাবে আহত করেছে বহিরাগত ক্যাডার লামন ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। রোববার বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ডায়না চত্তরের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ইবি চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এদিকে রোববার বিকেল ৪টার ট্রিপে কুষ্টিয়া থেকে কোন গাড়ি ক্যাম্পাসে আসেনি বলে জানা যায়।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানয়, শিক্ষার্থীদের নামিয়ে ২টার টিপের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফিরছিল শুধু ছাত্রীদের বহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় চালিত মিথুন (কুষ্টিয়া-ব ০০-০০০৫) পরিবহণের একটি গাড়ি। এসময় প্রেমিকাকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহর থেকে মিথুন পরিবহণে ওঠে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের তরঙ্গ নামের এক শিক্ষার্থী।
জানা যায়, তার প্রেমিকা কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী। এদিকে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় গাড়িচালক মিলন ইবি শিক্ষার্থী তরঙ্গকে মেয়েদের গাড়িতে উঠতে নিষেধ করে। এতে তরঙ্গ রেগে যায়। এক পর্যায়ে প্রেমিকার সামনেই গাড়ি চালকের সাথে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে তরঙ্গ। ক্যাম্পাসে পৌছে গাড়ি চালককে ২০ মিনিট পরে মজা দেখানোর হুমকি দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যায় তরঙ্গ নামের ঐ শিক্ষার্থী।
পরে তরঙ্গ বহিরাগত ক্যাডার লাবন, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের যুবাইর, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধুতি বিভাগের ০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের আজম এবং রিফাত, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের তুষারসহ ৮-১০জন গাড়ির চালক মিলন ও তার হেলপার রনিকে বেধরক মারধর করে।বুকে ও পিঠে লাথি মারতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং মুখ থেকে রক্ত বের হতে থাকে। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা চাকল ও হেলপারকে ইবি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকিয়া আক্তার। তিনি বলেন, বুকে মারাত্তক আঘাত পেয়েছে। যার কারণে মুখ দিয়ে রক্ত আসছে। দ্রুত উন্নতো চিকিৎসার জন্য সবার পরামর্শক্রমে আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে রোববার বিকেল ৪টার ট্রিপে কুষ্টিয়া থেকে কোন গাড়ি ক্যাম্পাসে আসেনি। এবিষয়ে পরিবহণ প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় কথা বলছি। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. রুহুল আমীন বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এর সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
এআই





