পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলন করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১৭ সিরিজের শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার (২২ জুলাই) বিকেলে এ আন্দোলন শুরু করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে তারা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বলছেন, উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, একই সেশনের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শেষ করেছে। অথচ আমরা এখন স্নাতকই শেষ করতে পারলাম না। যথাসময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের বারবার বলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। পরীক্ষা তারিখ দিলেও সেটা পিছিয়ে যাচ্ছি। তাই দ্রুত পরীক্ষার দাবিতে আমরা আন্দোলনে করছি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন। সেদিন পদন্নোতির দাবিতে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে আন্দোলন করেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক। সেদিনের পর থেকে উপাচার্য বিহীন নানান সংকটে চলছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৭-১৮ সেশনের স্নাতক শেষবর্ষের পরীক্ষা আরও আগে সম্পন্ন হওয়ার কথা, কিন্তু নানান জটিলতায় সেটা বারবার পিছিয়েই যাচ্ছে।

ফলে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে বসেন। পরে জরুরি সভায় দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণের আলোচনা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণার কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বিবদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, উপাচার্য না থাকায় দাপ্তরিক ও একাডেমিক কার্যক্রম থমকে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্পসহ পরীক্ষা ও ফলাফল প্রস্তুতে ধীরগতি এবং শিক্ষকদের পদন্নোতির মতো নানান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয় বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি জরুরি সভা হয়েছে। সেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে বারাবরই নতুন উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারে জানিয়ে আসছি, কিন্তু সেটার কার্যকরী কোনো সমাধান হচ্ছে না।

আগামীকালও আমরা মন্ত্রণালয়ে এসংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠাবো। আমরা চাই, দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ অথবা অন্য কারো ওপর সাময়িক দায়িত্ব অর্পণ করা হোক। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংকটগুলো দ্রুত সমাধান হয়।

এবিএস