রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন দিবস পালিত হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিজানউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফিন মাতিনের পরিচালনায় আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অথ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান, রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, ভূ-তত্ত ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

আলোচনাসভায় ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, দেশে বিরাজমান নিপীড়নমূলক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-ছাত্র সমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে। সেই প্রতিবাদ স্তব্ধ করতে ছাত্র-শিক্ষকদের গ্রেফতার করে বর্বর নির্যাতন করে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া হয় হয়রাণিমূলক মিথ্যা মামলা। ওইসব নিপীড়ন ও হয়রানির চক্রান্ত উদ্ঘাটন করে তা প্রকাশের দাবী জানান।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রাবির প্রতিবাদী ছাত্র-শিক্ষকের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের সামনে থেকে সাড়ে ১০টার দিকে একটি প্রতিবাদি র‌্যালি বের করে রাবি কেন্দ্রীয় সাংস্কতিক জোট। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিনেট ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে একটি সংহতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেন, কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, রাবি উপ-উপাচার্য অথ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফিন মাতিন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ। এসময় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের এক অংশ সমাবেশের সংহতি জ্ঞাপন করে।

বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালের এই দিনে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্যরা দেশব্যাপী ছাত্র ও শিক্ষকদের উপর বর্বর নির্যাতন চালায়। কিন্তু আজো দিবসটি জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পায় নি। সভায় বক্তারা দিবসটি জাতীয় ভাবে পালনের আহ্বান জানান।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিকালে বিশ্ববিদালয়ের মুক্তমঞ্চে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ