ছাত্রলীগের ২ নেতার বহিস্কারাদেশ বাতিল ও ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আজ সোমবার দুপুরে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা দশ মাইল দিনাজপুর মহা-সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। মুখো-মুখি অবস্থানে রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেছে বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষ। যে কোন সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশংকা কয়েছে। এই দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়।
গত ১৭ নভেম্বর থেকে এই ধর্মঘট এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের ক্লাশ-পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং এর সিদ্ধান্ত মতে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে। ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার এই নোটিশ জারি করে। এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কাছে। পাঠানো হবে। এ নিয়ে আবাসন ও শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকও হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের মিটিং চলছিল। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে। বাধা দেয় শিক্ষক ও কর্মচারী। এ সময় বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়।
এ অভিযোগ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও ছাত্রলীগ সভাপতি ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েল এবং সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের। এরই প্রতিবাদে আজ এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
এতে দিনাজপুর-রংপুর-ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম দূর্ভোগে পড়েছে দূর-পাল্লার যাত্রীরা।
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা চলছিল। এ সময় অত্যাধুনিক মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করার কারণে এক জনকে আটক করে দায়িত্বরত শিক্ষকরা। আটকৃত আবুল হোসেন লিটন রংপুরের পীরগাছা বাসিন্দা।
লিটন জানান, তাকে ক্যালকুলেটরের ছদ্মাবরণে মোবাইল ডিভাইসের এই ক্যালকুলেটরটি তার বন্ধুর বড় ভাই মনির দিয়েছেন। মনির ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স পাশ করেছেন। তিনি ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে আমাকে এটি দিয়েছে।
এ ঘটনায় বিকেলে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক অরুন কান্তি রায়। লিটন ও আবাসিক হল ডি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে হাবিপ্রবি’র কর্তৃপক্ষ।
এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২ নেতার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার ও ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে সৃষ্টি হয় এ পরিস্থিতি।
এমকে/এসএইচ





