সদ্যপ্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্রে বেশি নম্বর দিতে লিখিত নির্দেশ দেয়া হয়েছিল পরীক্ষকদের। প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের আলাদাভাবে বোর্ডের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
কোন শিক্ষার্থী ২৮ নম্বর পেলেও তাকে পাস নম্বর ৩৩ দিতে বলা হয়। এছাড়া এ+ ও এ গ্রেডসহ বিভিন্ন গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরপত্র সহানুভূতির সঙ্গে মূল্যায়ন করতে বলা হয়।
গত ১৭ই মে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এ পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায় এবং পাস করে। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় চারদিকে।
পরীক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের লিখিত নির্দেশ দেয়া হয়েছিল বেশি নম্বর দিতে। এছাড়া মৌখিকভাবেও দেয়া হয় নির্দেশ। কোন পরীক্ষার্থী ফেল করলে কেন ফেল করলো তার জবাবদিহির জন্যও তৈরি থাকতে বলা হয়।
পরীক্ষকদের বলা হয়- কোন শিক্ষার্থী ১০০ নম্বরের মধ্যে ২৮ পেলেই তাকে পাস নম্বর ৩৩ দিতে হবে। মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয় কোন শিক্ষার্থী ২৫ বা ২৬ পেলেও তাকে ২৮ দিয়ে পাস করিয়ে দিতে। এছাড়া কোন কোর্সে ৩৮ পেলে ৪০, ৪৮ পেলে ৫০, ৫৮ পেলে ৬০, ৬৮ পেলে ৭০ এবং ৭৮ পেলে ৮০ করতে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়।
এবার ৮টি সাধারণ বোর্ডসহ ১০টি বোর্ড মোট ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৩৩১ জন। পাসের হার ৯১.৩৪ ভাগ। যা গত বছরের চেয়ে ২.৩১ ভাগ বেশি। গত বছর পাসের হার ছিল ৮৯.০৩ ভাগ।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে রেকর্ড সংখ্যক ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন। গত বারের চেয়ে এবার জিপিএ ৫-এর সংখ্যা ৫১ হাজার ৫০ জন বেশি। ২০১৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯১ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ানো হচ্ছে। অথচ শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা বাড়ছে না। প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ বলেন, এতে শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাল ফল করছে অথচ দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এসব শিক্ষার্থী গণহারে ফেল করছে। তিনি আরও বলেন, যোগ্যতা বাড়াতে না পারলে ১০০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেই লাভ কি?
নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও বলেন, পাসের হার বাড়ছে। জিপিএ-৫ বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান দিনদিন কমছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ১৭ই মে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রমাণিত হয়েছে। ফলাফলের বিভিন্ন সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
মন্ত্রী বলেন, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিতের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে সবসময় চ্যালেঞ্জিং ছিল। এজন্য এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। প্রায় আট হাজার স্কুলে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ ক্লাস নেয়া হয়েছে। এতে পশ্চাৎপদ স্কুলগুলোতেও ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভাল ফলের আরেকটি কারণ হলো- কঠিন বিষয়গুলোতে এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে ভাল করেছে শিক্ষার্থীরা।
আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম বলেন, বেশি নম্বর দিতে হবে এমন নির্দেশনা দেয়া হয় না। তবে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করতে বলা হয়। যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
[b]ঢাকা, ১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর
[/b]
শিক্ষা
এসএসসিতে বেশি নম্বর দেয়ার নির্দেশনা ছিল
সদ্যপ্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্রে বেশি নম্বর দিতে লিখিত নির্দেশ দেয়া হয়েছিল পরীক্ষকদের। প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের আলাদাভাবে বোর্ডের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।





