কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবিতে অবস্থান কর্মসুচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা এ কর্মসুচি পালন করেছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি এবং ট্রেজারার দ্রুত ক্যাম্পাস খুলে দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেন। তবে আগামী ২০ মার্চের মধ্যে ক্যাম্পাস স্বাভাবিক না হলে ২১ মার্চ থেকে আমরণ অনশনের হুমকি দেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ক্যাম্পাস সচলের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা ক্লাস-পরীক্ষা এবং ক্যাম্পাস সচলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. লোকমান হাকীম ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিসির সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড.শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন দ্রুত ক্যাম্পাস খুলে দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেন। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ক্যাম্পাস সচলের দাবিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্বারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

বার বার দেখা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচি পালন করছেন। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ২০ মার্চের মধ্যে ক্যাম্পাস সচল করতে না পারে তাহলে ২১ মার্চ থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার জানান, ক্যম্পাস সচল করে ক্লাস পরীক্ষা চালু করা শিক্ষক হিসেবে এটা তারও প্রাণের দবি। সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং আছে। সেখান থেকে যদি নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া যায় তাহলে দ্রুত ক্যাম্পাস সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় এক ছাত্রের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক তা-বকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। এরপর এক সপ্তাহ পর আবার ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

এসএইচ