রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাদ্দামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর করে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি বিষয়টি চেপে যেতে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা।

এ ঘটনায় সোমবার বিকাল ৩টার দিকে ওই শিক্ষার্থী নগরীর মতিহার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. আল আমীন হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী।

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে দুপুরে সাদ্দাম শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হলের নিজ কক্ষে আল আমীনকে ডেকে নেন। এরপর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

একপর্যায়ে আল আমীনের বিরুদ্ধে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন সাদ্দাম। চাঁদা না দিলে তাকে শিবিরকর্মী বলে মারধর করে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন এই ছাত্রলীগ নেতা।

ওইদিনই বিকাশের দুইটি নম্বরের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা নেন সাদ্দাম। পরে ৩০ মে আরও ৪০ হাজার টাকা নেন তিনি।

সবশেষ সোমবার দুপুরে সাদ্দাম তার ০১৭১১-৯২৪৯৬২ এবং ০১৭৪৭৩২১০৫৬ নম্বর থেকে ফোন করে আবারও আল আমীনকে তার রুমে ডাকে। রুমে না গেলে সাদ্দাম ভুক্তভোগীর হাত-পা ভেঙে ফেলাসহ নানা ভয়ভীতি প্রদান করে।

জানতে চাইলে আল আমীন বলেন, '২৮ মে দুপুরে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম আমাকে তার রুমে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত ১০টা পর্যন্ত আমাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে। আমার বাব-মাকে ফোন দিতে বাধ্য করে এবং ৪০ হাজার টাকা বিকাশে নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরে আবার ৪০ হাজার নেয়।'

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, 'ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম আমাকে এখনও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তার রুমে ডাকছে। তাই এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি।'

জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম বলেন, 'ওই ছেলে ভর্তি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে দেড় লক্ষ টাকা চুক্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। যার সঙ্গে চুক্তি করেছিল তাকে টাকা দিয়েছে শুনেছি। আমি এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত নয়।'

নগরীর মতিহার থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বলেন, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক ছাত্রলীগ নেতা জোর করে চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

এমবি