শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবির প্রতি সমর্থন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের খারাপ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী ও সেক্রেটারি জেনারেল রাশেদুল ইসলাম বলেন, আগামী বাংলাদেশের কর্ণধার শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকার ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীন আচরণ জাতির জন্য চরম লজ্জার বিষয়। সম্প্রতি যানবাহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং বহু আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর নতুন করে ২৭% বেশি ভাড়া নির্ধারণের সুযোগে পরিবহনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাসে নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বাসে উঠতে দেয়া হচ্ছে না।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বাস শ্রমিকদের দুর্ব্যবহার আরো বেড়ে গেছে। হাফ ভাড়া নেয়ার পরিবর্তে তাদের সাথে অশোভন আচরণে অতিষ্ঠ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গাড়ি থেকে লাঞ্ছিত করে বের করে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। ভাড়া বাড়ানোর পর থেকে শ্রমিকদের অশোভন আচরণ ও হিংস্রতা তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অথচ শুধু বাংলাদেশ নয় বরং প্রতিবেশী ভারতসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই যানবাহনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে লজ্জাজনক চিত্র দেখতে হচ্ছে। কিন্তু সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারণে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। দেশের লাখো শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের এড়িয়ে যাওয়া মনোভাব এটাই প্রমাণ করে যে, শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের নূন্যতম কোন দায়বদ্ধতা নেই।

ছাত্রশিবির নেতৃবন্দ আরো বলেন, সরকার বরাবরই শিক্ষার্থীদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছে। করোনাকালে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও সরকারের নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কেন্দ্রিক সকল কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো। সে সময়ে শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ বিপর্যয় ও দুর্দশার কথা কারো অজানা নয়। অসংখ্য শিক্ষার্থীর শুধু পড়াশুনারই ক্ষতিই হয়নি বরং তারা অনেক ক্ষেত্রে মানবেতর জীবন যাপন করেছে।

এ সময়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনাও কারো অজানা নয়। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার শিক্ষার্থীদের সাথে যে আচরণ করেছে তাতে ছাত্রসমাজ, অভিভাবক ও বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে আঘাত লেগেছে। সেই ক্ষতির বলয় থেকে শিক্ষার্থীরা এখনো বের হতে পারেনি। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পরিবহন ভাড়া না কমিয়ে তাদের সাথে আবারো অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। কোনভাবেই শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ মেনে নেয়া যায় না।

‘শিক্ষার্থীদের দাবি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও জনসমর্থিত। এ দাবির প্রতি আমরা আকুণ্ঠ সমর্থন জানাচ্ছি’, বলেন তারা।

ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ার করে বলেন, করোনায় এদেশের লাখো শিক্ষার্থীর অপূরণীয় ক্ষতির পর এখন তারা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে না করতেই আবারো তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ শুরু হয়েছে। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে।

ছাত্রশিবির নেতৃদ্বয় সারা দেশের সকল পরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এমআর