জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আজ (১৩ নভেম্বর) বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, “দুর্নীতিবিরোধী চলমান আন্দোলনে হামলা করে ফারজানা ইসলাম তার দুর্নীতিবাজ চরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ৭৩-এর অধ্যাদেশকে বারবার লঙ্ঘন করে, সিনেট সদস্যদের তোয়াক্কা না করে একের পর এক শিক্ষার্থী বিরোধী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করার মধ্য দিয়ে শুধু উপাচার্যই নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবেও নিজের অবস্থান হারিয়েছেন।”

অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে আছে। যারা আন্দোলন করছেন তারা অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষার আন্দোলন করছেন। মনে রাখতে হবে, যদি ভুল পথে হাঁটি আমরা, যে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হল খালি করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, তারা আবার আন্দোলনে যোগ দিতে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাবি ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে, এখন যত দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা হয় ততই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মঙ্গল। কিন্তু তা না করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। যা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে সংশয় তৈরি করে।”

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, “এখনও তদন্তের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। হামলা-মামলা করে আন্দোলন বন্ধ করার যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে সেটি প্রত্যাখান করে আমরা আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি ৷ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন, জামাল উদ্দিন রুনু, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক তারেক রেজা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী), জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘হামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘অবিলম্বে হল ভ্যাকেন্ট বাতিল কর, করতে হবে’, ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি চাই না’, ‘যেই ভিসি সন্ত্রাস করে, সেই ভিসি চাই না’ স্লোগান দেন।

এমবি