চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) যোগাযোগ মন্ত্রী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদেরের গাড়ি আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির একাংশের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে বিলুপ্ত ছাত্রলীগ কমিটির একপক্ষের প্রতিরোধের মুখে অন্যপক্ষ যোগ দিতে না পারার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। মন্ত্রীর উপস্থিতিতে চবির সমাজকল্যাণ অনুষদ মিলনায়তনে শোকসভার অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এসময় একটি পক্ষ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর গেইট এলাকা অবরোধ করে। ভাঙচুর করে প্রক্টরের গাড়ি। ছাত্রলীগের অবরোধের মুখে আটকে পড়ে মন্ত্রীর গাড়িবহর। চবি
শিক্ষক সমিতির পূর্ব নির্ধারিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যোগযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যোগাযোগ মন্ত্রী চবি ক্যাম্পাসে আসায় এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের ক্যাম্পাস গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এসএম আলাউদ্দিনের আলমের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি গ্রুপ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। এসময় ছাত্রলীগের ‘ভিএক্স’ গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামরা চালায়। শুরু হয় উভয়পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ অডিটরিয়ামের সামনে থেকে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ঝুপড়ি, এক নম্বর গেইট ও জিরো পয়েন্ট এলাকায়।
পরে হাটহাজারী থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে ক্যাম্পাসের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু দুপুর ২টায় এ ঘটনার প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আলমের অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর গেইট অবরোধ করে রাখে। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রীর গাড়িবহর আটকা পড়ে যায় ছাত্রলীগের অবরোধের মুখে। এসময় প্রক্টরের গাড়ি ঘটনাস্থলে এলে ছাত্রলীগের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ইট পাটকেল ছুঁড়ে গাড়ির কাচ ভেঙে দেয়।
ভাঙচুরের পর অবরোধকারীরা মন্ত্রীর কাছে গিয়ে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানোর আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নিলে মন্ত্রী ক্যাম্পাস ছেড়ে আসার সুযোগ পান।
চবি প্রক্টর সিরাজ উদ উল্লাহ তার গাড়ি ভাঙচুরের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ওইসময় গাড়িতে আমি ছিলাম না। একজন সহকারী প্রক্টর গাড়িটি নিয়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনার সময় কারা জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজ.কম, জেআই





