কোটা বাতিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছেন কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করা সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সে সাথে কোটা বাতিল বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবী জানিয়েছেন তারা। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে বলে তারা ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার দুপু‌রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলা‌দেশ সাধারণ ছাত্র অধিকারে সংরক্ষণ প‌রিষ‌দের যুগ্ম আহ্বায়ক রা‌শেদ খান এ ঘোষণা দেন।

সে সাথে আহত ছাত্রদের সুচিকিৎসা ও কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ দি‌কে আন্দোলন স্থ‌গি‌তের প‌রে আনন্দ মি‌ছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে আন্দোলনকারীরা আনন্দ মিছিল বের করে। মি‌ছিল‌টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদ‌ক্ষিণ শে‌ষে রাজু ভাস্ক‌র্যে এসে শেষ হয়।

সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছাত্রসমাজের কথা বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন স্থগিত থাকবে।’

এরপর কমিটির ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক কয়েকটি দাবি পড়ে শোনান। এর মধ্যে আছে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘গেজেট’ আকারে প্রকাশ করে এর দ্রুত বাস্তবায়ন, গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি, আন্দোলনে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন, পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৫টি মামলা প্রত্যাহার।

এ ঘোষণায় বলা হয়, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ও নেতাদের পরবর্তী সময়ে কোনো রকম হয়রানি করা হলে আবার আন্দোলন করা হবে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে গত রোববার থেকে বড় আকারে আন্দোলন শুরু হয়। গতকাল বুধবার শাহবাগ এবং ঢাকার অন্যত্র সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে সরব হন। দেশের নানা জায়গায় সড়ক অবরোধ হয় এ দাবিতে।

ঢাকায় আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দাবি করেন। দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁরা দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের কোটা বাতিলের কথা বলেছেন।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন।

এমআর