পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রক্টরের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কার্যালয় ঘেরাও করে।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ কুশপুত্তলিকা দাহ করে তারা। এর আগে মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক বলেন, টিএসসিতে যে নির্লজ্জ ঘটনা ঘটেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। যেহেতু প্রশাসন অতীতের মতো এবারো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তাই এ অযোগ্য প্রক্টরকে অতিসত্বর পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

প্রক্টরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি সম্মান থাকতে নেমে যান। নইলে কীভাবে আপনাকে গদি থেকে নামাতে হবে, সেটা আমাদের জানা আছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের একাংশের সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকন বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রক্টরের। তাই ক্যাম্পাসে কোনো অঘটন ঘটলে সেই দায়ভার প্রক্টরকেই নিতে হবে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ছাত্রফ্রন্টের একাংশের সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রী চক্রবর্তী রিন্টু, ছাত্র ফ্রন্টের অপর অংশের সভাপতি জনার্দন দত্ত নান্টু, ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি সালমান রহমান, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত মল্লিক প্রমুখ।

এর আগে রোববার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অফিসের সামনে অবস্থান নেয় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকি আকতারের নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান নেয় এবং ভিসির অফিসের গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে তা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের সামনে নারীর শ্লীলতাহানীর ঘটনায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তার জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। একইসঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশেরও শাস্তি দাবি করেন।

কেএইচ