চলতি বছর মার্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কল্যাণের কথা ভেবে তৎকালীন সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদিন রাসেলের প্রস্তাবনায় গঠন কার হয়েছিলো ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কল্যাণ তহবিল’ যার হিসাব নং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অগ্রণী ব্যাংক-০২০০০১১৭৭৮৫২৬। সেই কল্যাণ তহবিলের অর্থ আদৌ কোনো নেতা-কর্মীর পেছনে ব্যয় হয়েছে কি না কেউ জানে না।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যেসব নেতা-কর্মী সাধারণভাবে গুরুতর দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে কিংবা রাজনৈতিকভাবে আহত হলে তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার জন্য এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। সেই সাথে রাজনৈতিক কারণে যদি কোনো নেতা-কর্মী নিহত হয় তাহলে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে এই তহবিলের অর্থের মাধ্যমে।

প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, নেতা-কর্মী সাধারণভাবে গুরুতর দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে কিংবা রাজনৈতিক কারণে আহত হলে সেক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্বরত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে অর্থ উত্তোলন করা যাবে। তবে নিহতের ব্যাপারে, অবশ্যই রাজনৈতিক কারণে নিহত হতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিহতের সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কল্যাণ তহবিলে অর্থ যোগানের জন্য শুধু আওয়ামী রাজনৈতিক মতাদর্শীদের অর্থই গ্রহণ করা হবে। অন্য কারো অর্থ গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছিল।

ছাত্রলীগের সম্মেলনে এসে এক কর্মী মারা যাওয়ার পর ছাত্রলীগ কল্যান তহবিল আলোচনায় এসেছে। তবে তহবিল গঠনের কথা ছাত্রলীগের বাকী নেতারা জানলেও তারা বলতে পারেনা সেই তহবিলের টাকা কোথায় ব্যবহার করা হয় বা কার অধীনে আছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তরিকুল-রাসেল কমিটির সাবেক কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ‘আমরা জেনেছিলাম ছাত্রলীগ কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছিল। তখন সে তহবিলের জন্য অর্থও জমা করা হয়েছিল তবে তারা সেই অর্থের কথা জানে না বলে জানান।’

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এ্যাড. কাজী নজিবুল্লাহ হীরু ভাই তার পরিবারকে সর্বনিম্ন দশ লক্ষ টাকা যোগাড় করতে বলেছেন। তিনিও সাহায্য করতে চেয়েছেন। তবে এই সময় ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় কেউ এর দায়িত্ব নেয়ার নেতা নেই।’

এ বিষয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, ‘ছাত্রলীগ কল্যাণ তহবিলের টাকা আমাদের কাছে সুরক্ষিত আছে। এখন ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় কেউ এই টাকা উত্তোলন করতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দশ হাজার টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করি। এরপরে শোভন ভাই, রাব্বানী ভাই ও নজরুল ইসলাম বাবু ভাই কিছু অর্থ দিয়েছিলেন। সবমিলে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আছে।’ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হলে ছাত্রলীগ কল্যান তহবিলের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

এসএম