বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এই শাখার নেতা-কর্মীরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পাশে দাঁড়িয়েছে সবসময়।
অথচ সম্মেলনের একশো দিন পূর্ণ হলেও নতুন নেতৃত্ব উপহার দিতে পারেনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এবছরের ২০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সেদিন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন,'যারা সৎ,ক্লিন ইমেজের,যাদের ছাত্রত্ব আছে এবং যাদের নামে কোনো কলঙ্ক নেই জগন্নাথে তাদের নেতা নির্বাচন করতে হবে।'
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তখনকার সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নজরে আসার জন্য সে সময় পদ প্রত্যাশীরা বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে নিজেদের অবস্থান জানান দিতো।
মধুর ক্যান্টিন,ডাকসু ভবন কিংবা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লবিং-তদবির নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতো,এখনো করছে। কিন্তু নতুন কমিটি উপহার দেয়ার আগেই চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের পদ হারায় শোভন-রাব্বানী।
এরপর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দিতে বিলম্ব করছেন। এখন তাদের নজরে আসার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন পদ প্রত্যাশীরা।কিন্তু কমিটি নিয়ে কোনো গুঞ্জন না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছে নেতা কর্মীরা।
আসন্ন কমিটিতে ভাইটাল (সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) পদের জন্য মরিয়া হয়ে আছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইব্রাহীম ফরাজি,আক্তার হোসেন,আসাদুজ্জামান আসাদ,নুরুল আফসার,সাবেক সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম,জামাল উদ্দিন,সৈয়দ শাকিল,সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক আজিজ,দপ্তর সম্পাদক শাহবাজ হোসেন বর্ষণ,নাজমুল আলম,শরীফ-সিরাজ কমিটির উপ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ,সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন অনি ও মোজাক্কির হোসাইন খান সবুজ।
উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ জবি ছাত্রলীগের প্রথম সম্মেলনের প্রায় ছয় মাস পর ১৭ অক্টোবর তরিকুল ইসলামকে সভাপতি ও শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ(সোহাগ-জাকির কমিটি)। এই কমিটি ঘোষনার ছয় মাসের মধ্যই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটি জবি শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিতাদেশ দেয়।পরবর্তী সময়ে ৩ ফেব্রুয়ারি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষনের ঘটনায় আবারো জবি শাখা কমিটি স্থগিত করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
কিন্তু কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ও ঘটনার তদন্ত চলাকালীন জবি ছাত্রলীগ দুই গ্রুপ আবারো সংঘর্ষে জড়ায়। এতে সাংবাদিক সহ ২৫ জন আহত হয়।পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার তথ্য সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ১৯ ফেব্রুয়ারি জবি শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এখন প্রায় আট মাস ধরে নেতৃত্ববিহীন রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
ফারুখ/এমআর





