পাহাড়ী এলাকায় উপজাতীদের জন্য যে সব প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। উপজাতী অধ্যুষিত এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমানে স্কুল স্থাপন করা হবে জানান সাবেক স্বরাস্ট্র মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি আয়োজিত কেন্দ্রীয় কমিটির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নেতৃবেৃন্দের বিদায় সংবর্ধনা ও প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে অবগত আছেন, যথা সময়ে এসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। 

তিনি  আরো বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে আমাদের দেশে আর কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন হয়নি। তাই আপনাদের উচিত এ বিষয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা।

২০১৩ সালে ২৩ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১ লক্ষ ৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি সরকার জাতীয় করণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি সকলেকে সমান সুযোগ দেওয়ার জন্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানে আলোকিত দেশ গড়ার জন্য। কিন্তু যারা জোর করে অস্ত্রের মুখে ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে চেয়েছিলো, এমন কি জেনারেল এরশাদও দেশের উন্নয়নের জন্য কিছিুই করেনি।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, সকল সরকারী কর্মচারীর বেতন দ্বিগুন হবে। সাথে শিক্ষকরাও যুক্ত হবে।

দেশে পর্যাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি হিসাব করে দেখেছি প্রতি ৭৭২ বর্গমাইল এলাকায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। যতগুলো কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এত কম সময়ে অন্য কোথাও তা করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

দেশে কলেরা, ম্যালেরিয়া, যক্ষা নাই উল্লেক করে তিনি বলেন, আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছি যা কিনা ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও নাই।

কতিপয় স্বার্থন্বেস্বী মহল গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারেছে। কিন্তু এ ধরনের কাজ করে তারা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করতে পারেনি।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কতিপয় ধর্মান্ধ ব্যক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে কথা বলে। যারা মাদ্রাসায় ভর্তি হবে তাদেরকে ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বই মাল্টিমিডিয়া করা হচ্চে জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে সব বই আছে, তা মাল্টিমিডিয়া করা হবে। আর সেকেন্ডারী পর্যায়ের বইও মাল্টিমিডিয়া করা হচ্ছে। মাল্টিডিয়া হয়ে গেলে তখন সকল ছাত্র-ছাত্রী নোটপেড, ল্যাপটপ, আইপেড নিয়ে ক্লাস করতে পারবে। যদি কোন কারণে কোন ছাত্র-ছাত্রী ক্লাসে উপস্থিত হতে না পারে তাহলে সে বাসায় বসেই ক্লাসের পড়ায় যোগ দিতে পারবে বলেও জানান।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের চিকিৎসার জন্য উন্নতমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং মহাবিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। হাসপাতালে শিক্ষকরা বিনামুল্যে চিকিৎসা নিতে পারবে। আর মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাবে।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মুনছুর আলী, মেজর জেনারেল হাবিবুর রহমান প্রমূখ।

এমএ/এমকে