কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহবুবুল হক ভূঁইয়াকে ১মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হয়েছে।
আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। এর আগে শোক দিবসে ক্লাস নেয়ার অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করলে ভিসি তাকে এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠান।
পরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থী এবং দেশব্যাপী সচেতন মানুষের আন্দোলনের মুখে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান ভিসি।
এর আগে রোববার মাহবুবুল হক ভূঁইয়াকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আলী আশরাফকে তার কার্যালয়ে প্রবেশে করতে দেয়নি শিক্ষকরা। একই দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া ঐ শিক্ষককের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে ভিসি বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে প্রত্যাহারের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও রেজিস্ট্রারকে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি চলছিল। ঐ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক এবং ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান মাহবুবুল হক ভূঁইয়া বিভাগে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন এমন অভিযোগ তোলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
মাহবুবুল হক ভূঁইয়া জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছিলেন না। বিভাগের একটি কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তিনি কিছু বিষয় বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, "আমি একেবারে ইনফর্মাল, ডায়াসেও দাঁড়াই নাই। শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে বসে ওদের পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম। ওরা এটা ওটা জিজ্ঞেস করছিল আমি উত্তর দিচ্ছিলাম।"
"এর মধ্যে হঠাৎ দেখলাম, ক্লাসরুমের পেছন দিকে থেকে ভিডিও করতে করতে একজন ঢুকে পড়ল। এরপরই সামনের দরজা দিয়ে ঢুকলো এখানকার ছাত্রলীগের নেতারা, তাদের সঙ্গে ৩০/৪০ জন আরো।"
"তারা জানতে চাইল শোক দিবসে আমি ক্লাস নিচ্ছি কেন? আমি বললাম, এটা ক্লাস না, আমি পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছি। আর যে ব্যাচের কথা বলা হচ্ছে, তাদের ক্লাস ১৫দিন আগে থেকে বন্ধ, কারণ ওদের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। সেই হিসেবেও তো ওদের ক্লাস নেবার সুযোগ নেই", বলছেন মাহবুবুল হক ভূঁইয়া।
এমবি





