আলিফ, শহীদুল্লাহ, মনিরুজ্জামান ও তাইজুল ইসলাম বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রজাপতি মেলার কথা শুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বন্ধু মিলে এসেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি দেখতে।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থিত 'প্রজাপতি হাটে' প্রজাপতি দেখতে দেখতে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করলেন তারা, ‘এভাবে প্রজাপতি ছুয়ে দেখতে পারা আসলেই সৌভাগ্যের বিষয়। এখানে না এলে এরকম নানা প্রজাতির প্রজাপতির সৌন্দর্য দেখতে পেতাম না।’
সাভার থেকে মা-বাবার সাথে এসেছে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাশফিয়া। বারবার প্রজাপতি ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছুটা মন খারাপ তার। মা শারমিন আক্তার বললেন, ‘এবারই প্রথম প্রজাপতি দেখতে আসা। এত কাছ থেকে প্রজাপতি ধরতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এরপর থেকে প্রতিবারই আসার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’

“উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি”- এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে প্রকৃতি ও প্রজাপতি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত শাখার আয়োজনে সপ্তমবারের মতো আজ শুক্রবার আয়োজিত হলো দেশের একমাত্র প্রজাপতি মেলা।

মেলা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী, বয়োবৃদ্ধসহ হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করে ক্যাম্পাসে। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় জহির রায়হান মিলনায়তনে মেলার উদ্বোধন করেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম মেলার আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবেশে প্রজাপতির অবদান অনবদ্য রয়েছে। প্রজাপতি সংরক্ষণে আমাদের সবাইকে যেমন সচেতন হবে তেমনি সংরক্ষণের করণীয় সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলেই এ মেলার স্বার্থকতা।

এসময় উপাচার্য প্রাণীবিদ্যা বিভাগের পরবর্তী গবেষণা ‘ফড়িং’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন। উদ্ভোদনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলাম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডীন আব্দুল জব্বার হাওলাদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়র প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনে-এর চেয়ারম্যান জনাব মুকিত মজুমদার বাবু এবং জনাব অসিত রন্জন পাল, বন সংরক্ষক, বাংলাদেশ বন বিভাগ ।

জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সার্বিক অবদানের জন্য এবারের প্রজাপতি মেলায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন কে বাটারফ্লাই এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ইয়াং বাটারফ্লাই ইনথুসিয়াস্ট এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন খানকে ।

দিনব্যাপী এ মেলার অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল মেলা উদ্বোধন ও প্রজাপতি বিষয়ক এ্যাওয়াড প্রদান,প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা ও প্রতিযোগিতা (শিশু-কিশোরদের জন্য), আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির হাট দর্শন (জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন), অরিগামি প্রজাপতি, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড্ডয়ন, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারী প্রদর্শন এবং বিকাল চারটায় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলা শেষ হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে একই জায়গায় গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন স্কুলের কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রজাপতি মেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রজাপতি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ধারাবাহিকভাবে এ মেলার আয়োজন করে আসছে। এ মেলা একদিকে প্রকৃতিপ্রেমীদের যেমন আনন্দ দিচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রজাপতি বিলুপ্তের হাত থেকে বাঁচাতে জনসচেতনা সৃষ্টিতে সহায়তা করছে।

রাইয়ান /এআই