ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের বিরুদ্ধে নিজ সংগঠনের কর্মীদের হকস্টিক দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ৯জন আহত হয়।

আহতরা হলেন-হলের প্রথম বর্ষের আতাউল, সাগর আহমেদ, মনিরুল, রুহুল, সাগর উদ্দীন; ২য় বর্ষের রতন ও আলী এবং ৪র্থ বর্ষের ইমতিয়াজ, মার্স্টাসের ফরহাদ।

এদের মধ্যে তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় প্রিন্সের হাতে লাঞ্চিত হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল হক রনি।

জানা যায়, হলের ১০৯ নম্বর কক্ষে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ উদ্দীন খান এবং ১১০ ও ১১১ নম্বর কক্ষে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমনের অনুসারীরা অবস্থান করে।

সভাপতি অনুসারীদের অভিযোগ, লিমনের অনুসারীরা রুমে প্রায় রাতেই উচ্চস্বরে গান করে। গত পরশু দিন গভীর রাত পর্যন্ত গান করতে থাকলে ইউসুফের অনুসারীদের সমস্যা হয়। এসময় ইউসুফের অনুসারীরা উচ্চস্বরে গান না করতে নিষেধ করলেও তারা তা শুনেনি।

এরই জের ধরে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ওয়াশ রুম থেকে ফেরার সময় ইউসুফের অনুসারী আতাউল নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে লিমনের অনুসারীরা।

এসময় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স ঘটনাস্থলে হকস্টিক নিয়ে এসে ইউসুফের অনুসারীদের মারধর করতে থাকে। এসময় হলের সিনিয়াররাও আসলে সিনিয়ারদেরও মারধর করেন তিনি।

ঘটনাস্থলে প্রিন্সের হাতে লাঞ্চিত হন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল হক রনি। লিমন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সের অনুসারী।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হল সভাপতি ইউসুফ উদ্দীন খান বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিকে বিষয়টি জানিয়েছি। শুধু আজকে নয়, প্রত্যেকটি ঝামেলায় সে (প্রিন্স) এই কাজটা করে। কর্মীদের পেছনে দিয়ে তিনি নিজেই সামনে এসে মারামারি শুরু করেন।

তবে ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, এরকম কোন কিছু হয় নি। জুনিয়র কর্মীদের মারধর করা হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতাকে লাঞ্চিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক। ঝামেলার সমাধান করার জন্য যেটা দরকার সেটা করেছি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানি না।

এমবি