জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সাধারণ সম্পাদককে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানাভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদেশ ভ্রমণে অনুমতি না নেওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ড. মো. রইছ উদ্দীন নামে এক শিক্ষককে অধ্যাপক পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদাবনতি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, "৬২তম সিন্ডিকেটে মো. রইছকে অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদাবনতি করা হয়েছে। পাঁচ বছর তিনি কোনো পদোন্নতি পাবেন না। এছাড়া তিনি ১০ বছর প্রশাসনিক কোনো কাজের দায়িত্ব পাবেন না।”
গত ১৪ মার্চ সময় স্বল্পতার কারণে ছুটির দরখাস্ত দিয়ে মৌখিক অনুমতি নিয়ে মালেশিয়ায় এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করায় তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত ২৩ মার্চ প্রশাসন তাকে কোন প্রকার শোকজ ছাড়াই প্রশাসনিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নোটিশ দিয়েছে। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২তম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অথচ আওয়ামীপন্থি আরো ৬ শিক্ষক ছুটির দরখাস্ত ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ করলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
জানা গেছে, চলতি মাসের ১৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের মাধ্যমে ভিসি বরাবর ৫ দিনের ছুটির জন্য লিখিত আবেদন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদদীন। ১৪ মার্চ সেমিনারে অংশগ্রহণ করার বাধ্যবাদকতা থাকায় এবং সময় স্বল্পতার কারণে লিখিত আবেদনের উত্তর পাওয়ার আগেই ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।  তবে মৌখিকভাবে ছুটির বিষযে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীযানুর রহমান ও রেজিস্টার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামানরে সাথে একাধিকবার কথা বলেছেন অধ্যাপক রইস। ভিসি ও রেজিস্টারের কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পেয়েই ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে এই ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  ড. রইছউদ্দীনকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য গত ২৩শে মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।  অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তকে কর্যকর করতেই বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২ তম সিন্ডিকেটে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় ।
শিক্ষকরা ড. রইছউদ্দীনের বিরুদ্ধে এই রকম সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন হয়েই নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন। কারন এর আগেও অনেক শিক্ষকই ছুটির দরখাস্ত করে মঞ্জুর হওয়ার আগেই বিদেশে ভ্রমন করেছেন। এমনকি আওয়ামী পন্থি একাধিক শিক্ষক প্রশাসনকে অবহিত না করেও ছুটি ভোগ করেছেন কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এই সকল শিক্ষকবৃন্দ হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ১৫.০৪.১২ তারিখ থেকে ২২.০৪.১২ তারিখ পর্যন্ত বিনা ছুটিতে সৌদি আরব ভ্রমণ করেন, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের চেয়ারম্যান প্রতিভা রাণি কর্মকার ২১.০৩.১২ তারিখ থেকে ২৫.০৩.১২ তারিখ পর্যন্ত কোন প্রকার ছুটির দরখাস্ত জমা না দিয়েই ছুটি ভোগ করেন এবং ছুটি থেকে ফেরার পর ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নেন। এছাড়াও দর্শন বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক ড. নূরুল মোমেন দুই দফায় ২৪.০১.১২ থেকে ০৭.০২.১২ এবং ০৮.০২.১২ থেকে ২৮.০২.১২ তারিখ পর্যন্ত বিনা ছুটিতে ই ভারত ভ্রমণ করেন। ইতিহাস বিভগের প্রভাষক শহীদ কাদের গত বছরের মে মাসে চার দিনের জন্য এবং কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের মেহনাজ তাবাস্সুম গত ০৫.০৩.১৪ থেকে ১২.০৩.১৪ তারিখ পর্যন্ত দরখাস্ত ছাড়াই ভারত ভ্রমণ করেন।
এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিষ্ট্রার প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, অধ্যাপক ড.রইছ উদ্দিন ১৩ মার্চ ৫ দিনের জন্য ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আবেদনটি মঞ্জুর করার আগেই তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন।
অধ্যাপক ড.রইছ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেই আমি বিদেশ ভ্রমণ করেছি। শুধু তাই নয় মালেশিয়ায় পৌছার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং রেজিষ্টারের সাথে মোবাইলে একাধিকবার কথা বলেছি। আমি আশা করি ভিসি মহোদয় এ ব্যাপারে সুন্দর একটি সমাধান করবেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
[b]ঢাকা, ২৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]