চলতি বছরের মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার পাসের হারে ঢাকা বোর্ডে সেরা স্কুলের মধ্যে অন্যতম মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এবার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ১ হাজার ৫১১ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন।

আগের বছর মতিঝিল আইডিয়ালে থেকে ১ হাজার ৩৬১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন; যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১ হাজার ৩৬০ জন অর্থাৎ পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

এবার ঢাকার অন্যতম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও।

মতিঝিল আইডিয়াল থেকে পরীক্ষায় নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৩৬৭ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আগের বছর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ২৪৫ জন।

পাসের হার ও জিপিএ-৫ দু’টিই বাড়ায় বেশ খুশি  প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফল প্রকাশের পরপরই স্কুলের শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। স্কুলের মাঠে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উল্লাস করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এ অর্জনে স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাকরাও খুশি।

ফলাফল সম্পর্কে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, এবার আমাদের পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৫১১ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৩৪৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৬৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সব বিভাগ মিলিয়ে আমাদের পাসের হার শতভাগ।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের ১ হাজার ৩৪৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩০৮ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার গতবারের চেয়ে বেশি।

এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৯৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা গতবছর ছিল ৯৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৯ জন; যে সংখ্যা গতবছর ছিল ৩০।

এবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৩৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ; যা গত বছর ছিল ২৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

ড. শাহান আরা বেগম বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ পেতে হলে তাকে সমগ্র বই সম্পর্কে জানতে হবে। খাতা দু’বার মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষকরা খাতা একবারই দেখেছেন। তারা খাতা দেখে প্রধান পরীক্ষকের কাছে দিয়েছেন। প্রধান পরীক্ষক সেই খাতা আর একজন পরীক্ষকের কাছে দিয়েছেন। এটি শুধু এবার না, গতবারও এটি করা হয়েছিল।

মতিঝিল আইডিয়ালে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, আমার এবার ভিন্ন কোনো উপায় অবলম্বন করিনি। আমরা সব সময় যেভাবে চলি সেভাবেই শিক্ষার্থীদের পরিচালনা করেছি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অবিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফল এটি। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা টেস্ট পরীক্ষায় খারাপ করে, আমরা তাদের বের করে দেই না। তারা যে বিষয়ে খারাপ করে, সেই বিষয়টা আমরা আরও একবার পরীক্ষা নিই।

তিনি আরও বলেন, এসএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার হার কমে যাওয়ায় খারাপ লাগছে। আমরা চাই যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারা সবাই যেন পাস করে যায়। আমাদের শতভাগ পাস করেছে, জিপিএ-৫ গতবারের থেকে বেশি হয়েছে, এর জন্য আমরা আনন্দিত।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শিরিন আসলাম নিঝুম বলেন, আমি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছি। আমার অনেক ভালো লাগছে। এসএসসি পরীক্ষা আমাদের জীবনের জন্য বড় একটা পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় এমন একটি রেজাল্ট করতে পেরিছে, এতে যে কী আনন্দ সেই অনুভূতি বলে প্রকাশ করার মতো না।

ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, ভবিষ্যতে আমি সেনাবাহিনীতে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। আমি দেশের সেবা করতে চাই। সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে আমি নিজেকে দেশ সেবায় নিয়োজিত করতে চাই। এ ছাড়া আমার আব্বুর অনেক ইচ্ছা আমি সেনাবাহিনীতে যাই। আমি আমার আব্বুর ইচ্ছা পূরণ করতে চাই।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী সিফাত রায়হান কাব্য বলেন, গাড়ির সখ আছে তাই ভবিষ্যতে আমি অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে আমার অনেক অনন্দ হচ্ছে। ভবিষ্যতেও আমি এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।

এমই