‘চাইরডা ফার্স্ট ক্লাস যদি দশে (লাখ) পারোস, তালি পরে আমি যোগাযোগ করতিছি আবার, মার্কেটিংয়ে আর ফিন্যান্সে খুঁজি দেহি।’ বলছিল রুহুল আমিনের বন্ধু হাকিম। রুহুল আমিন: ‘ওরে বলবি যে আমি চেষ্টা করব, ১০ না হয় ১২ পর্যন্ত নিতে হবে, কারণ কিছু তো তোর থাইকতে হবে, থাইকতে হবে না...? আব্দুল হাকিম: ‘এ্যহন দশের কতা কছিলাম, আমি আবার ডাইরেক্ট না করি দিছি, যে দশে তো হবো না।’

উপরিউক্ত কথোপকথোন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর মোঃ রুহুল আমিনের নিয়োগ বাণিজ্যের ফাঁস হওয়া অডিও কল রেকর্ড থেকে নেওয়া। ইতোমধ্যে ফাঁস হওয়া কল রেকর্ড নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু এখন সহকারী প্রক্টর রুহুল আমিনের নিয়োগ বাণিজ্য। সমালোচকরা বলেছে, শিক্ষক নিয়োগে আবেদনকারী প্রতি প্রার্থীর কাছে থেকে ১০ লাখ টাকা নিলেও যদি রুহুল আমিন ও তার বন্ধুর কিছুই না থাকে তবে এই ১০ লাখ টাকা যাবে কোথায় ? এদিকে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া একটি পক্ষ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ সমালোচকদের আশা, প্রশাসন আবশ্যই ১০ লাখ টাকার কেন্দ্র বিন্দু বের করবে এবং ক্যাম্পাসের স্বার্থে এবং শিক্ষক সমাজের সচ্ছতার স্বার্থে সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক এর যথাযোথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রুহুল আমিনের কল রেকর্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সে আব্দুল হাকিম নামে তার এক বন্ধুর সাথে কথা গুলো ফোনে বলছিল। রুহুল আমিনের সেই কল রেকর্ড এখন সবার হাতে হাতে ছড়িয়ে পরেছে।

কল রেকর্ড থেকে জানা যায়, রুহুল আমিন তার বন্ধুকে প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। রুহুল তার বন্ধুকে স্পস্ট জানিয়ে দিচ্ছেন, চারটি সার্টিফিকেটের মধ্যে (মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) চারটিতেই যাদের প্রথম শ্রেণী আছে তাদের ১২ লাখ টাকা হলেই নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। তিনটিতে প্রথম শ্রেণী থাকলেও চলবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রার্থীকে ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। যারা টাকা দিতে রাজি হবে না তাদের বিষয়ে তিনি বলেন ‘চাকরি যাতে জীবনে না হয়, সেই ব্যবস্থা আমি (রুহুল আমিন) করে দেব।’

রুহুল আমিনের বন্ধু আব্দুল হামিদ বর্তমানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে রুহুল আমিন আর রুহুল আমিন এখন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আস্থা ভাজন হওয়ার কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বন্ধু হাকিমকেও তিনি প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগের বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা, পিএইচডি ডিগ্রী দ্রæত সম্পন্ন করতে সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিতে প্রয়োজনে বন্ধুর (হাকিম) জন্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ করার কথাও বলেন (যদিও অনেক আগেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে)।

২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তৎকালীন প্রশাসন। শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ওইদিনই রুহুল আমিন আব্দুল হাকিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে এসব কথা বলেন। ১০ মিনিট ১ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে রুহুল আমিন নিজ বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের জন্য লোক খুঁজতে দিক নির্দেশনা দেন তার বন্ধুকে। রুহলের মুখে উচ্চারিত বিভাগ গুলোর মধ্যে রয়েছে- মার্কেটিং, ফোকলোর স্টাডিজ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগ। সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে জানা যায়, উল্লিখিত বিভাগ সমূগের নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে দ্রæত এসব বিভাগের নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।

পাঠকের জন্য রুহুল আমিন ও মো. আব্দুল হাকিমের কথোপকথনের নিজে তুলে ধরা হলো-

রুহুল: ওই আজকের অবজারভারে কিন্তু ফিন্যান্সের সার্কুলার হইছে।
আবদুল হাকিম : তা ফিন্যান্সের সার্কুলার হইলে আমি কি হরবো, হে... হে...(হাসি)।
রুহুল: তুই ক্যান্ডিডেট ধরবি।
আবদুল হাকিম : দেখমুনি, খোঁজ-খবর নিমুনি। এত তাড়াতাড়ি সার্কুলার চলে আইছে?
রুহুল: তুই মার্কেটিংয়ে খুঁজলি না।
আবদুল হাকিম : মার্কেটিং... মনে করো যে আটপার-বাটপারদের ভর্তি তো... অনেকেই বিশ্বাস করে, অনেকেই ট্যাহা কম দিব, এত ট্যাহার কথা হুইনা মাতা ঘুইরা যায়, ট্যাহা ছাড়াই চাকরি নিবার চায়।
রুহুল: যেডা যেডা এইরমক চায় আমাক বলিস তো, চাকরি যাতে জীবনে না হয় সেই ব্যবস্থা আমি করে দেব।
আবদুল হাকিম : হুম... ওই যে ওহেনে কিন্তু আমি কইয়া দি, সেলিম মিয়া, আমগোরে হুজুর সেলিম মিয়া মার্কেটিংয়ে অ্যাপলিকেশন করছে, জুলফিকার মার্কেটিংয়ে অ্যাপলিকেশন করেছে। এগুলার চাকরি হইলে তোগোরি ঘটি-বাটি আউট হইয়া যাইব।
রুহুল: পাগল হাইচ্যাস, এত সোজা, চাকরি নেয়া।
আবদুল হাকিম : দেহি ফিন্যান্সে পাওয়া যায় কিনা, খুঁজবানে।
রুহুল: তাড়াতাড়ি। ইকোনমিক্সে পাস নাই? ফিন্যান্সে পাস নাই? মার্কেটিং এ পাস নাই?
আবদুল হাকিম : ওইতো এখানতো বিচিত্র ক্যান্ডিডেট।
রুহুল: পলিটিক্যাল সাইন্স? ফোকলোর?
আবদুল হাকিম : আবার এখন ট্যাহার কতা হুইনা আইনা, মনে করোন যে শালা তো আমার ট্যাহা-পয়সা নিবরে। চাকরি-বাকরি তো কিছুই তা ঠিকই না। ট্যাহা খোঁজে।
রুহুল: চাকরি বাদ দিয়া যদি ধর যে এই শালার এই কাজও করতি তাওতো মেলা টাকা ইনকাম করতি (গালি)।
আবদুল হাকিম : এইডাই, ঠিকি আছে, সবাই তো আর বিশ্বাস করে না।
রুহুল: চাকরি বাদ দিয়া যদি রাজশাহী যাইয়া বইসা থাকতি, শালার দুইডা সাবজেক্টের প্রত্যেকটায় যদি দুইডা কইরা ক্যান্ডিডেট করলি তো ধর যে চার আর লাখ দশেক টাকা করে ইনকাম করলি আর লাগে। হে... হে...(হাসি)।
আবদুল হাকিম : তাতো ঠিকই।
রুহুল: তাই না... আ।
আবদুল হাকিম : দেকমুনি, দেকমুনি সমস্যা নাই দেহি, বাইর করোন যায় কিনা।
রুহুল: তাইলে দেখ, খুঁজতে থাক। আর কি অবস্থা ?
আবদুল হাকিম : থ্রি ফাস ক্লাস হইলে চইলব? থ্রি ফাস ক্লাস।
রুহুল: ফোর ফার্স্ট ক্লাস বেশি খুঁজবি, থ্রি ঝামেলা হয়ে যায়।
আবদুল হাকিম : ফোর ফার্স্ট ক্লাস তো পাওয়াও মুশকিল। আবার ফোর ফার্স্ট ক্লাস ১৫ লাখ ট্যাহা দেবার রাজিও হয় না।
রুহুল: নাজমুল মার্কেটিংয়ে রাজি হইছিল, খুঁজচ্ছিল?
আবদুল হাকিম : অ্যাঁ।
রুহুল: নাজমুল মার্কেটিং কি পাইলো কাউকে?
আবদুল হাকিম : কোন নাজমুল
রুহুল: নাজমুল না ইয়ে সরি ইয়ে কি জানি বলছিলি।
আবদুল হাকিম : কামাল, কামাল।
রুহুল: কামাল, কামাল?
আবদুল হাকিম : একজোনারতো কতা-বার্তা ছিল, পরে টেহার কতা হুনে তো অজ্ঞান হয়ে গেছে।
রুহুল: আচ্ছা।
আবদুল হাকিম : ট্যাহা ১৫ লাকের কথা কওয়া হইছিল না? হইনেই অজ্ঞান অয়া গেছে।
রুহুল: বুঝছি।
আবদুল হাকিম : হম... হম...।
আবদুল হাকিম : কয় হ্যার আবার চাইরডা র্ফার্স্ট ক্লাস তো, কয় সুইনাই অজ্ঞান হইয়া গেল আবদুল হাকিম ভাই, আমি আর কি কবো, তাই আমি বললাম যে, ঠিক আছে তাইলে ফোর র্ফার্স্ট ক্লাস নিয়া ওই ওইহানে চাকরি কইরা খাইক, যেহানে আছে ওইহানেই থাইক।
রুহুল: ওই অ্যাপ্লাই করছে?
আবদুল হাকিম : অ্যাপ্লাই তো করছেই, র্ফার্স্ট ক্লাস চাইরডা।
রুহুল: চাইরডা র্ফার্স্ট ক্লাস হইলে একটু কম দিলেই হবে।
আবদুল হাকিম : চাইরডা র্ফার্স্ট ক্লাসে কি দশে দিবার পারবি।
রুহুল: ব্যবস্থা করতে হবে, চেষ্টা করতে হবে।
আবদুল হাকিম : চাইরডা র্ফার্স্ট ক্লাস যদি দশে পারোস, তালি পরে আমি যোগাযোগ করতিছি আবার, মার্কেটিংয়ে, আর ফিন্যান্সে খুঁজি, দেহি।
রুহুল: ওরে বলবি যে আমি চেষ্টা করব, ১০ না হয় ১২ পর্যন্ত নিতে হবে, কারণ কিছু তো তোর থাইকতে হবে, থাইকতে হবে না?...
আবদুল হাকিম : এহন দশের কতা কছিলাম, আমি আবার ডাইরেক্ট না করি দিছি, যে দশে তো হবো না।
রুহুল: কে বলছিল।
আবদুল হাকিম : আছে একটা ক্যান্ডিডেট, চারটাতেই র্ফার্স্ট ক্লাস, রাজশাহীর ক্যান্ডিডেট।
রুহুল: অ্যাপ্লাই করছে?
আবদুল হাকিম : অ্যাপ্লাইতো করছেই।
রুহুল: তাইলে ওর সাথে কথা বল।
আবদুল হাকিম : তাইলে আমি একটু খোঁজ নেই, বুঝছু?
রুহুল: তাইলে ওর সাথেই কথা বল, বল যে ঠিক আছে, তোকে কিন্তু আরও দুই এক লাখ লাইগতে পারে, এইডা বইলা রাখ।
রুহুল: না ১২ পর্যন্ত হয়তো টাইনা টুইনা যাওয়ার পারমু, আমি আবার কিছুই কই নাই।
আবদুল হাকিম : না ১২ পর্যন্ত হইলে হবে কি, তোর কিছু থাকল আর আমি এখানে ১০ পর্যন্ত হইলে কাজ করতে পারি
আবদুল হাকিম : আচ্ছা অসুবিধা নাই, দেহিস আমি তাইলে কতা কই দেহি।
রুহুল: তুই তাইলে কতা কইয়া এক্কেবারে রেডি করে ফেলবি, টাকা-পয়সা সব রেডি করে তারপর আমাকে জানাবি।
আবদুল হাকিম : আমি দোস এহনি কতা কই, কতা কইয়া তোক জানাইতেছি, দেহি কি অবস্থা, শোন ওর ভাববার সময় দিছি, আমি ওর ভাববার সময় দিসি।
রুহুল: বলবা যে কি করলা আগে সেইডা বল, চাকরি-বাকরি এত সহজ না, আর ওখানে মার্কেটিংয়ের চাকরিতে মাসে এক লাখ টাকা ইনকাম হবো।
আবদুল হাকিম : হ্যাঁই শুধু মার্কেটিং না তো যে কোনো সাবজেক্টেই তো ইনকাম মেলা।
রুহুল: মার্কেটিং নতুন সাবজেক্ট একেবারে রাজত্ব করতে পারবা, ঢুকলেই এক বছরের মধ্যে চেয়ারম্যান হয়ে যাবা, দরকার হইলে এক নাম্বার করে দিব, বুঝতে পাইরছিস।
এর পর নিজের নিয়োগ পাওয়ার কোন সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে রুহুল আমিন হাকিমকে আশ্বস্থ করেন। হাকিম বলেন, এহন ডিগ্রি (পিএইচডি) ওইলে আমারডা (চাকরি) কি হইরবার পারবি হেইডা চিন্তা কর।
রুহুল: ডিগ্রি হইক তার পরে, পরেরটা আগে কইরা তো লাভ নাই।
আবদুল হাকিম : ওহ ... হ, তাতো ভালোই।
রুহুল: ডিগ্রি হইলে তখন যুদ্ধ করতে পারব, তুইতো হইল নিজের মানুষ।
আবদুল হাকিম : ডিগ্রি হইলে তখন সম্ভব হইব কিনা, হ্যাঁ...?
রুহুল: হ্যাঁ হ্যাঁ।
আবদুল হাকিম : জাইনা কস? না, না জাইনা কস?
রুহুল: না... না... কোনো টেনশন নাই, আগে খালি ডিগ্রিটা হইক না, দরকার হইলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করব, তাও তোকে শিক্ষক বানাবোই... হে... হে... (হাসি)।
আবদুল হাকিম : তাই, তাইলে তুই, আমি তাইলে কতা বইলা... আমি তাইলে কতা বইলা তোক জানাইতাছি, হুম?
রুহুল: ঠিক আছে তুই কোনো টেনশন করিস না।
আবদুল হাকিম : টেনশন তো, টেনশন কইরা কইরা তো জীবন শেষ অয়া গেল।
রুহুল: অতো টেনশন কইরা লাভ আছে?
আবদুল হাকিম : ৪০ বছরের মধ্যে যদি ঢুকতে পাইরতাম, তাও ২৫ বছর চাকরি করা যাইতো, তুই বুঝছু, আমি খালি চিন্তা কইরছিলাম আল্লায় যেন কপালে কি রাখছে, এহনো সার্টিফিকেটের বয়স কেবল ৩৮ বছর কিন্তু......।
রুহুল: তোর পুরো ডিগ্রিটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল, তাইলে তো শালা কত সুযোগ ছিলরে....., শালার অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্টে আমি নিজের লোকই খুঁজে পাইলাম না, এক কামাল ছাড়া।
আবদুল হাকিম : ওরে এইডা ওইযে এই (গালি) মিলন। (গালি) আমাক শেষ কইরে দিল।
রুহুল: হ ... হ (গালি) মিলন না হইলে...আর ইয়ের সাথে কতা হইছে?
আবদুল হাকিম : আরে তুমি কইলা শাওনেরে সাইচ কইরা ফেলাইচি, শাওন আমার কতা মনে করো যে ফেলাইতে পারবে না।
রুহুল: হুম.. কি বইলছে? কি বইলছে?
আবদুল হাকিম : আমি তোক কইছিলাম না, আমি সেই ব্যবস্থা করছি। বাড়িতে আইসা রাগ করছি, সেও রাজি হইয়া গেছে গা।

এদিকে সহকারী প্রক্টর রুহুল আমিনের নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর মো. রুহুল আমিনের নিয়োগ বাণিজ্যের গুরুকে তা নিয়েও প্রশ্ন সবার চোখে মুখে।

এদিকে রুহুল আমিেিনর ঘটনা প্রকাশের পর এক জরুরী বৈঠকে বিশ্ববিদ্যায় প্রশাসন প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহকে আহŸায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সাথে রুহুল আমিনকে তদন্ত চলা কালে সকল প্রকার প্রশাসনিক এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আসাদকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ্যাকাউন্টিং বিভাগের প্রফেসর ড. অরবিন্দ শাহাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রুহুল আমিনের বক্তব্যের জন্য একাধীক বার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন ওয়েটিং পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পরে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রুহুল আমিনের বক্তব্য নি¤œরুপ, ‘বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও অডিও রেকর্ড আছে জানার পর বিষয়টি স্বীকার করেন রুহুল আমিন। তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। এবং মান সম্মান রক্ষার কথা বলেন।’

প্রোভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘অত্র বিভাগ, বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ রক্ষার্থে আনিত অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।’

ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘অনিয়োম করে কেউ রক্ষা পাবে না। যে কোন অপরাধের সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলেই আমারা তদন্তের মাধ্যমে তার বিচার করতে বদ্ধ পরিকর। ফিন্যান্স বিভাগের ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছি।’

হিমেল/জারিফ