রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টররিয়াল বডি, পুলিশ ও প্রহরীদের পাশাপাশি এবার আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদেরকে মোতায়েন করা হচ্ছে।
এজন্য ইতোমধ্যে আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আগামী আগস্ট মাস থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে আনসার সদস্যদেরকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মজিবুল হক আজাদ খান।
তবে ক্যাম্পাসে আনসার বাহিনীর নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ (৪৬৪তম) সিন্ডিকেট বৈঠকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩০ জন আনসার সদস্যকে মোতায়েন করা হবে। ক্যাম্পাসের অন্তত ৭-৮টি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা প্রহরায় থাকবেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ পাওয়া প্রহরীদের সঙ্গেই এসব আনসার সদস্যরা কাজ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে তাদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ফটক ও ভবনে নিরপত্তার ব্যবস্থার জন্য প্রহরী নিয়োগ দেয়া আছে। ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্ট্ররিয়াল বডি ও নিয়োগ দেওয়া প্রহরীদের দিয়ে সমগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব না হওয়ায় ক্যাম্পাসে পুলিশকে আনা হয়। তাই এসব প্রহরীদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ফটকে বা ভবনে যেসব প্রহরী কাজ করছে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। তাই বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা খরচ করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। আগামী মাস থেকে ক্যাম্পাসে প্রথম পর্যায়ে ৩০ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন-রাত ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখরিত থাকবে এটাই আমরা চাই। কিন্তু ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা অনেকাংশে বাড়লেও নির্বিঘ্ন হয়নি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ক্যাম্পাসে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এমআইএস





