পিঠা বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে নগরায়ণের প্রভাবে আজ তা অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। হাজার বছর আগ থেকেই কৃষকের ঘরে হেমন্তের ফসল উঠলে তৈরি হতো পিঠা। এই ধারাবাহিকতা চলত শীতকাল পর্যন্ত। এক সময় বাঙালির যে কোনো উৎসব আনন্দে মিশে থাকত রকমারি পিঠা। যান্ত্রিক জীবনে যা আজ অনেকটাই হারাতে বসেছে। নগর সংস্কৃতির প্রভাবে হারিয়ে যাওয়া পিঠা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে '১২ ডিসেম্বর দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব ১৪২৬ এর আয়োজন করে জিঞ্জিরা পি এম পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

উৎসবে স্কুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ২৫ টি স্টল নিয়ে অংশগ্রহণ করে। গ্রাম-বাংলার প্রায় ৫০ রকমের পিঠার সাথে পরিচিয় করানোর পাশাপাশি বিক্রিও করা হয়। উৎসবে চিতই পিঠা, ভাঁপা পিঠা, চৈ পিঠা, পোয়া পিঠা, পাকন পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, জামাই পিঠা, গোলাপ পিঠা, নকশি পিঠা, ঘরকন্যা পিঠাসহ বিভিন্ন পিঠা স্থান পায়।

টিচার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। শীতের সকালে পিঠা উৎসবে আয়োজিত পিঠার স্টলগুলো নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। পোস্টার, পল্গ্যাকার্ড আর ফেস্টুনে ছেয়ে যায় স্কুল চত্বর। শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহে কোলাহলমুখর হয়ে ওঠে স্কুলপ্রাঙ্গণ। উৎসব চলে দুপুর পর্যন্ত । পিঠা উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করতে ছিল শিশুদের গান ও নৃত্য পরিবেশনা। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ছাড়াও আশপাশের সাধারণ মানুষ এই উৎসব উপভোগ করেন। এ সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু রাহান, সহকারি প্রধান শিক্ষক রুবিনা খাতুন, সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ (বাংলা) সহকারী শিক্ষকা শিরিন সুলতানা(বিজ্ঞান) সহ আরো অনেক শিক্ষক স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।

ষষ্ঠ শ্রেণীর শাপলা বিভাগের শিক্ষার্থী জিনিয়া আক্তার বলেন, 'ছোটবেলা থেকে শহরে বড় হয়েছি।
গ্রামে খুব একটা যাওয়া হয়নি, আর এতসব পিঠাও খাওয়া হয়নি। বাংলাদেশের একেক অঞ্চলের একেক রকম পিঠা। আর এই পিঠা উৎসবে সেই পিঠাগুলো এখানে এসেছে। সেই সুযোগে হরেকরকম পিঠা দেখাও হলো আর খাওয়াও হলো।'

পিঠা উৎসব ১৪২৬ এর সমন্বয়ক আবু রায়হান বলেন, ' স্কুলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এরকম একটি আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। এই উৎসবে সবার স্বতঃস্ফূর্ত আগমন আমাদের এই আয়োজনকে সফল করেছে। এতে সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ এবং আমরা ভবিষ্যতে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। এই রকম অনুষ্ঠান হতে থাকলে যারা এ স্কুল থেকে বিদায় নিয়েছেন তারা আবার আসতে পারবেন। যার ফলে স্কুলে সিনিয়র এবং জুনিয়রদের সঙ্গে এক মধুর সম্পর্ক তৈরি হবে।

 

মাহমুদ রনি/ মামা