কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জমিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘটে দ্বিতীয় দিনের মতো অচল হয়ে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

টানা আন্দোলনের ২০তম দিনের মতো এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকতে দিলেও কাউকে কোনো ভবনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীরা জানান, সর্বাত্মক ধর্মঘট থাকলেও ২১ আগস্টের নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ভবনে কেউ ঢুকতে পারছে না। কোনো ক্লাস-পরীক্ষা এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিল বের করেন। মিছিলটি ভিক্টোরিয়াপার্ক ঘুরে ক্যাম্পাসে ফিরে যায়। পরে ক্যাম্পাসে থেমে থেমে খণ্ড খণ্ডভাবে মিছিল অব্যাহত রেখেছেন তারা।

তারা আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নেতৃত্বে দুদফা তালা ভেঙে ভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালানো হয়। শিক্ষার্থীরা ভবনগুলোতে আবারো তালা ঝুলিয়ে দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাস্তা অবরোধ করে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেন তারা। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড নুর মোহাম্মাদ বলেন, শিক্ষকেরা ক্লাসমুখী। সব বিভাগে ক্লাস না হলেও কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা হচ্ছে। শিক্ষকেরা ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে আছেন। একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে কিনা তাদের ব্যাপার।

কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জমিতে চার নেতার নামে আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে ২ আগস্ট থেকে টানা আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ২০তম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

২০১৪ সালের ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় কারাগারের জমির দাবিতে জবি কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্রসচিব বরাবর আবেদন করে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো সাড়া মেলেনি।

এ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮তম জরুরি একাডেমিক সভা ডাকেন উপাচার্য। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ীভাবে দিতে একাডেমিক কাউন্সিল সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

এমএনজে