সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি; বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সবচাইতে আলোচিত এবং সমালোচিত একটি নাম। নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগ ছিল সব সময়েই।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি আয়ত্ত করতে পারছে না বলে সমালোচনাও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এছাড়াও প্রথম দিকে ছয়টি সৃজনশীল থেকে সাতটিতে রূপান্তরিত সমালোচনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি না বুঝতে পারার পেছনে সবচাইতে দায়ী হিসেবে ধরা হচ্ছে শিক্ষকসম্প্রদায়কে। কারণ খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই জানিয়েছে যে, ৬০ শতাংশ শিক্ষকই জানেন না সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি সম্পর্কে। শিক্ষকরাই যদি সৃজনশীল না বোঝেন তাহলে কিভাবে ছাত্রদেরকে তা বোঝাবেন এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া আসলেই দুরহ ব্যাপার।

তবে শুধুমাত্র শিক্ষকদের একারই যে দোষ তা মানতে নারাজ শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটধারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, 'আমাদের দেশে সৃজনশীল পদ্ধতি আনয়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা যাতে বাস্তবমুখী হয় এবং নিজের মস্তিষ্ক খাটিয়ে তাদের পডালেখাকে আয়ত্ত্বে আনতে পারে।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এই নীতি অবলম্বন করতে চায় না বা মানতে চায় না। তারা সহায়ক নোট এবং কোচিং-প্রাইভেট'কেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। এতে করে তারা নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পড়ালেখাকে আয়ত্ত করতে পারছেনা। তাই সৃজনশীল আয়ত্বে আনতে পাঠ্যবইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

জনাব আখতারুজ্জামান আরও বলেন, 'একজন শিক্ষক তার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য। কিন্তু সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি সম্পর্কে বুঝতে হলে শিক্ষকদের জন্য আরও বেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল পদ্ধতি আয়ত্তে আনার বিষয়ে জনাব আখতারুজ্জামান বলেন, 'সহায়ক নোট অথবা কোচিংমুখী হয়ে যে সময়টা অহেতুক নষ্ট করা হয় সে সময়টা যদি শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়ার টেবিলে ব্যয় করে এবং স্বীয় মস্তিষ্ক ব্যবহার করে পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে তাহলে সৃজনশীল ভীতি চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব।

তাই সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আহবান, 'সহায়ক নোট ব্যবহার না করে নিজেদের পাঠ্যবইয়ের প্রতি অধিক মনযোগী হতে হবে তাহলে দেখবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে আর কোনো জড়তা থাকবেনা।'

আরিফ/জেড