দিনাজপুরের বাংলা হিলি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল আলম উজ্জল’কে অপসারনের দাবীতে আজ শনিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বাংলাহিলি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের আচরন সহ্য করতে না পেরে ক্লাস বর্জন করে তারা রাস্তায় নেমে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তাদের সাথে ভালো ব্যাবহার করেন না, তার আচরনও অত্যান্ত দুঃখজনক।

এছাড়াও ওই বিদ্যালয়ের উচ্চ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে আপত্তিকর কথা বলেছে যা একজন আদর্শপুর্ন শিক্ষকের পরিপন্থি।

তারা প্রধান শিক্ষকের অপসারন দাবী করে ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করছে।

এদিকে ষষ্ট থেকে দশম শ্রেনী ১৬০ জন ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের চারিত্রিক দিকগুলো তুলে ধরে দ্রুত শাস্তি ও যেকোন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলির জন্য উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ বরাবরে লিখিত অভিযোগসহ আবেদন করেছে। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক কাজের জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বরাদ্বকৃত ১,৮৬,৪৯৪/০০ টাকা ভুয়া ভাউচার মুলে তুলে আত্মসাৎ করেছেন।

তিনি বিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের শিক্ষক রেজাউল ইসলামের নামে ১৯,৫২০/০০ টাকা ভুয়া ভ্রমন বিল তুলে আত্মসাৎ করেছেন। রেজাউল ইসলাম নিরুপায়ে উপজেলা হিসাবরক্ষন অফিসার আব্দস ছালাম মিঞাকে অবগত করেছেন।

মাত্র ১৯,৩০০ টাকা দিয়ে ফ্রিজ কিনে ৫০,০০০ টাকার ভুয়া ভউচার করে, এক টাকারও যন্ত্রপাতি না কিনে তিনি ল্যাবরোটরীজের খরচ বাবদ ৫০,০০০ টাকা তুলেছেন।

বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকরা জানান, তিনি প্রধান শিক্ষক হয়েও বিদ্যালয়ে ঠিকমতো আসেন না।

বিদ্যলয়টির একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট, ভবন গুলো রাতে বাতি জ্বলেনা, ডিশের বিল বাকি, টেলিভিশন রিমোর্ট না করে তিনি বিভিন্ন নামে বেনামে বিদ্যালয়ের অর্থ আতœসাৎ করেছেন। এসব বিষয়ে কথা বললে শিক্ষকদেরকে অন্যত্র বদলির হুমকি ধামকি দেন ওই প্রধান শিক্ষক।

প্রথম সাময়িক, জেএসসি, মডেল টেষ্ট, দশম শ্রেনীর নির্বাচনী পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষায় ভুলেভরা প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেন। অথচ ওই শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ২০০ টাকা হারে পরিক্ষার ফি আদায় করেছেন তিনি।

২০১৫ সালের এসএসসি ফরম পুরুনে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ১৩৮৫ টাকার বিপরিতে ১৯৩৫ টাকা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ১২৪৫ টাকার বিপরিতে ১৮৮৫ টাকা নিয়েছেন তিনি। ভর্তি ফরম বাবদ ১০০ টাকা নির্ধারন করা থাকলেও নেয়া হয়েছে ১৫০ টাকা।

মংগা ও দরিদ্রপীড়িত এলাকা হিলি’র সকল পরীক্ষার সমস্ত টাকা শিক্ষকদেরকে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন ওই প্রধান শিক্ষ নিজেই। পরীক্ষার মূল্যায়ন বাবদ টাকার কথা অন্যান্য শিক্ষকেরা উত্থাপন করলে তিনি চড়াও হয়ে অশ্লিল ভাষায় কথা বলেন।

তার অফিস কক্ষে ইংরেজি শিক্ষক মোস্তফা কামাল ডেকে গালে চড় মেরেছেন। মোস্তফা কামাল লজ্জায় ঘৃনায় রংপুর অঞ্চল থেকে বদলি নিয়ে জয়পুরহাট জেলার সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে চলে গেছেন।

প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে আসেন আব্দুল ওয়াদুদ, গত জুলাই মাসে এলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল আলম তিনি ও তার বন্ধু সাবেক ডিডি রফিকুল ইসলামের যোগসাজসে সাতদিনের মধ্যে অন্যত্র বদলি করিয়ে দিয়ে রেজাউল আলম আবারও বহাল থেকে যান।

২০১২ সালে এই রেজাউল আলম বিরামপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা কালিন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শারিরীক বিভাগের স্থানীয় শিক্ষাপ্রিয় আদর্শ শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম কে পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে বদলি করান।

প্রধান শিক্ষক রেজাউল আলম জানান, তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয় গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি সব কিছু এড়িয়ে যান।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম জানান, ইতি পুর্বেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও মিছিল হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল আলম উজ্জল এর বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ছাত্রীরা আবারও মিছিল করেছে। 

বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি ছাত্রীদেরকে আশ্বস্থ করেন।

এসএইচ