ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণিত বিভাগে এবার রেকর্ড সংখ্যক ফল বির্পযয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করেছে ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ পাসের হার মাত্র ৫৭ শতাংশ। অবশ্য শিক্ষার্থীরা দাবি করছে এটিও সঠিক তথ্য নয়। সুকৌশলে পাসের হার কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর হার ৬০ শতাংশেরও বেশি!

গত মাসের ২০ তারিখে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহলুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত গণিত বিভাগের ৯৩তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল শিটে দেখা যায়, সব কোর্স মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীর মধ্যে উর্ত্তীণ হয়েছেন ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর সেখানে ফল বিপর্যয়ে পড়েছে ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।

এছাড়াও এ বিভাগেরই আরেকটি কোর্সে ২০০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণের খাতায় নাম উঠাতে ব্যার্থ হয়েছে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ এ কোর্সে অকৃতকার্যের হার প্রায় ৮৩ শতাংশ।

বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভাগীয় ফলাফল শিটে শতকরা ৫৭ ভাগ পাশের কথা জানালেও তা আসলে সত্য নয়। তাদের দাবি অকৃতকার্যের সংখ্যা শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি। ডিপার্টমেন্ট ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করে প্রকৃত তথ্য গোপন করেছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।

সূত্র জানায়, ৯৩ তম ব্যাচ (১ম বর্ষ) এর ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয় ২০১৪ সালের ১৮ অক্টোবর। প্রথম দুইটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র তুলনামূলকভাবে বেশ কঠিন হওয়াতে অনেক পরীক্ষার্থী পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দেয়ার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে গণিত বিভাগের শিক্ষক সোহেল রানার ৪ ক্রেডিটের কোর্সে প্রায় ২০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র ৩৫ জনের মত উর্ত্তীণ হয়েছে। পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এই বছরে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী ৩.৫+ সিজিপিএ অর্জন করতে পেরেছে, যা গত বছরগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ কম।

জানা যায়, ঢাবির অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু রয়েছে। কিন্তু গণিত বিভাগে এমন পদ্ধতি চালু না থাকায় নিয়মানুযায়ী অকৃতকার্য এসব শতাধিক শিক্ষার্থীকে পুণরায় ১ম বর্ষে অধ্যয়ন করতে হবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। দেশের বাছাইকৃত মেধাবীদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী যে বিভাগ থেকে প্রথম বর্ষেই অকৃতকার্য হয়, তখন বুঝতে বাকি থাকেনা যে এই ফলাফলের জন্য শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরাই দায়ী থাকতে পারেনা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, যাদের দায়িত্বহীনতার কারণে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হলো তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহি করা উচিত।

ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অমূল্য চন্দ্র মন্ডল বলেন, ফল বিপর্যয়ের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। গণিত বিভাগের এমন ফল বিপর্যয়ের পিছনে ছাত্ররা বলে শিক্ষকদের দোষ এবং শিক্ষকরা বলবেন ছাত্রের দোষ। তবে এর পিছনে আরো কিছু কারণ রয়েছে।

ফেল করার জন্যে শিক্ষার্থীরা দায়ী জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সারা বছর পড়া লেখা না করে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে স্লোগান দেয়, গার্লফ্রেন্ড এবং বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ায়, পড়ালেখা করে না, তারা ফেল করবে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা নিজেদের রি-এ্যাড দিয়ে ডাক্তার- ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার প্রস্তুতি নেয়। বিভাগের পড়া-লেখা করে না। তাই এ ধরনের ফল বিপর্যয় ঘটেছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসা অনুষদভুক্ত ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ (১৯তম ব্যাচ) ৪র্থ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় হয়। সেখানে পরীক্ষায় মোট ১২৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫১ জন। ওই সেমিস্টারে মোট কোর্স ছিলো ৫টি। এর মধ্যে ১টি কোর্সেই ফেল করেছেন ৫০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া সবগুলো কোর্সে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ জন। গত ১৮ মে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কেএইচ