ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কবলে পড়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামে কলমু এফএমসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন বিলীন হওয়ার পথে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঠাঁই হয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যানের ঘরের বারান্দায়।
সম্প্রতি বিদ্যালয় ভবনটি ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের শিকার হওয়ায় অস্থায়ীভাবে সেখানে পাঠদান করা হচ্ছে বলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল মমিন খান জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ওই বিদ্যালয়ে প্রায় তিন শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী লেখাপড়া করছিল। কিন্তু ভবনটি ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কবলে পড়ায় তাদের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বছরের শেষ সময়ে এ পরিস্থিতিতে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোলায়মান আলীর বাড়িতে পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, আপাতত, এই চেয়ারম্যানের বাড়িতেই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত থাকবে। পানি শুকিয়ে গেলে বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করে সুষ্ঠু লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাবেক চেয়ারম্যান সোলায়মান আলী জানান, ভাঙনের শিকার বিদ্যালয় থেকে প্রায় আড়াইশ ফুট দূরে তার বাড়ি। বিদ্যালয় ভবনটি ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কবলে পড়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। তাই শিশুদের কথা বিবেচনা করে তার ঘরের বারান্দায় লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
এ ছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ির টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থাও করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম- চেয়ারম্যানের বাড়ির ঘরের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন।
সেখানে চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ বসানোর পরিবেশ নেই। তাই শিক্ষার্থীদের চটের উপর গোল করে বসিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সালমা খাতুন জানায়, সে ভেবেছিল বিদ্যালয় ভবনটি ব্রহ্মপুত্র নদে ভেঙে যাওয়ায় তার লেখাপড়া বুঝি বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু এখন অস্থায়ীভাবে হলেও চেয়ারম্যানের বাড়িতে পুনরায় লেখাপড়া চালু হওয়ায় সে খুব খুশি।
ওই ছাত্রীর বাবা আব্দুস সাত্তার জানান, পিএসসি পরীক্ষার আগেই বিকল্প ব্যবস্থায় লেখাপড়া চালু হওয়ায় এখন শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারবে। এতে করে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের চিন্তা কিছুটা হলেও কমেছে।
এসএম





