ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দর্শন পড়াতেন অধ্যাপক ইয়াসীন আলী। শিক্ষার্থীদের সসবসময় আপনি সম্বোধন করাই ছিল তার নীতি। ক্লাসে ঢুকেই কিছু সদুপদেশ দিতেন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য। এরপর শুরু করতেন নির্ধারিত ক্লাস। ক্লাস নেয়ার এই অনন্য বৈশিষ্ট্য ইয়াসীন আলীকে জনপ্রিয় করে তোলে শিক্ষার্থীদের কাছে। এই প্রিয় শিক্ষক আজ আর নেই! সবাইকে কাঁদিয়ে শোক-সায়রে ভাসিয়ে চিরিবিদায় নিয়েছেন তিনি। এ শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শোকে মুহ্যমান শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারিরাও। সকালে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির পূর্ব গেটে তাঁর প্রথম নামাজে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম ত্বহা। এছাড়াও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শাপলা ফোরামের নেতৃবৃন্দ, মরহুমের বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক -সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মরহুমের দ্বিতীয় জানাযার নামাজ আজ মঙ্গলবার বিকালে তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবার সূত্রে জানা গেছে। পরে তাকে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

অধ্যাপক ইয়াছিন আলী গত ৭ অক্টোবর ব্রেইনস্ট্রোক ও হার্টস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পরবর্তীতে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে হঠাৎ রক্তে ইনফেকশন বেড়ে গেলে তিনি ইন্তেকাল করেন।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ইয়াসিন আলী ১৯৬৫ সালে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার রাণীনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখর মেধাবী ও জ্ঞানতাপসী এই শিক্ষক রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। সেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী শেষ করে ১৯৯২ সালে যোগদান করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।

তিনি তাঁর দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে বাংলা বিভাগসহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত দশটি বিভাগে ফোকলার, দর্শন ও মুসলিম দর্শন বিষয়ে পাঠদান করেছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি ইবি ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

মামা