দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার পর জাবি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসঙ্গে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, হল ভ্যাকেন্ডের সিন্ধান্ত হয়েছে। ছেলে-মেয়ে সবারই বিকাল ৪টার মধ্যে হল ছাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের নেতৃত্বে সিন্ডেকেটের জরুরি এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলনকারীদের আমার বাসভবনের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের পেছনে জামায়াত-শিবির রয়েছে। তারা কয়েক দিন ধরে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমি বের হতে পারিনি।
এর আগে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হয়ে সিন্ডিকেট বৈঠক ডাকেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩৫ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার এক পর্যায়ে পুলিশের সামনেই আন্দোলনকারী শিক্ষদের লাঞ্ছিত করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চলমান অবরোধে টানা ১০ দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল।
গতকাল (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে ভিসির বসভবন অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় জাবি ভিসি বাসাতেই ছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা টানা ১০ দিনের মতো নতুন ও পুরনো দুইটি প্রশাসনিক ভবনই অবরোধ করে রেখেছে।
ফলে এই ১০ দিন ভিসি, দুই প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীই প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। তবে একাডেমিক কার্যক্রম অনেকটা স্বাভাবিক ছিল।
এমবি





