কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে ছেড়ে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেই তিন নেতার একজন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ (সোমবার) দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রাশেদ খানের সঙ্গে ছাড়া পাওয়া অপর দুই নেতা হচ্ছেন- সংগঠনটির যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর ও যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক আহমদ।
রাশেদ খান বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে থেকে আমাদের রিকশা থেকে জোর করে নামিয়ে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আমাদের চোখ বেঁধে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমাদের ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে চানখাঁরপুলের দিকে যাওয়ার সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে থেকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।
দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তিনি ওই অভিযোগ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, “তাদের কিছু তথ্য সহযোগিতার জন্য আনা হয়েছিল। তারা চলে গেছে। তাদের কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।”সবার কাছ থেকেই তথ্য নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন তুমুল গতি পায় গত ৮ এপ্রিল। সেদিন কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থী তরুণরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বের হয়ে শোভাযাত্রা করে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের উপর টিয়ারশেল ছুড়লে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
এ ঘটনায় আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং দেশজুড়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই রাতে আন্দোলনের নাম করে কিছু দুর্বৃত্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করে ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে সব কোটা তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তবে উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের কোনও ক্ষমা হবে না তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন।
এমবি





