সরকারের আশ্বাসকে ‘অতি চতুরতা’ আখ্যায়িত করে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে তিন দিনের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ এর অন্যতম সমন্বয়ক জ্যোর্তিময় চক্রবর্তী শুক্রবার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে শনি থেকে সোমবার এই ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “অবিলম্বে টিউশন ফির ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য টিউশন ফি নির্ধারণের নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে আমরা ধর্মঘট পালন করব।”
বাংলাদেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এই ধর্মঘট চলবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরে ধানমণ্ডি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলও করেন আন্দোলনকারীরা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে গত কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার রামপুরায় ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে এর প্রতিবাদে এবং ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাস্তায় নামে আন্দোলনকারীরা। এতে যানজটে পুরো রাজধানী কার্যত অচল হয়ে যায়।
এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, টিউশন ফি’র ওপর এই ভ্যাট আলাদা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে না বরং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারকে এই ভ্যাট পরিশোধ করবে।
‘বিদ্যমান টিউশন ফি’র মধ্যে ভ্যাট ‘অন্তর্ভুক্ত থাকায়’ টিউশন ফি বাড়ার কোনো ‘সুযোগ নেই’ বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
এরপর রাতে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেন, “এই ভ্যাট তো ছাত্রদের দিতে হবে না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে।”
তবে সরকারের এ আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন জানিয়ে জ্যোর্তিময় চক্রবর্তী বলেন, “সরকারের বা এনবিআরের ব্যাখ্যা অতি চতুরতার্পূণ। শিক্ষা মৌলিক অধিকার। এর ওপর আমরা কোনো ধরনের ভ্যাট চাই না।”
ওই ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেবে বলা হলেও ভবিষ্যতে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ ও টিউশন ফির টাকা বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকেই ওই ভ্যাট আদায় করবে বলে এই শিক্ষার্থীর আশঙ্কা।
জেআই





