আগামীতে শতভাগ জিপিএ-৫ পাবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে দ্বাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা হচ্ছে। যখন ক্লাশে খোঁজ নিতে যাই মনটা ভরে যায়।কারণ শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট পেতে মরিয়া। ছোট্ট বিষয়েও তাদের পারস্পারিক প্রতিযোগীতা দেখে আমি অবাক হই না। কারণ শিক্ষার্থীরা বরাবর সেটাই করে দেখিয়েছে।
এমনি আত্মবিশ্বাসের সাথে কথাগুলো বলছিলেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমামুল হুদা। এবার এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ ও পাশের গড় হিসেবে শুধু ঢাকা বোর্ডে নয় সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবার প্রতিষ্ঠানটির মোট ১২৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার্থীদের সবাই কৃতকার্য হয়।এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০১ জন। পাশের হার শতভাগ। আর জিপিএ পাওয়ার হার ৯৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির শুধু শিক্ষার্থী নয়, অভিভাবকরাও অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। শিক্ষকদের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেবার অদম্য স্পৃহাই এই ফলাফলের কারণ বলে দাবি করলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রি. জে. ইমামুল হুদার। তিনি প্রতিষ্ঠানটির এই ভালো ফলাফলের কারণ ও আগামীতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি কি হতে পারে তা নিয়ে টাইমনিউজবিডি’র সাথে কথাবলেন।
তিনি বলেন, আমাদের পাশের হারের সাথে সাথে শিক্ষার মানও অনেক বেড়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের জন্য পাঁটি বিষয়ের সমন্বয় থাকলেই হয়। ১. প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভালো রেজাল্টের ক্ষুধা, ২. আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সিরিয়াস। ৩. অভিভাবকরাও কম না। সন্তানদের ক্লাশ রুটিন থেকে শুরু করে লেখাপড়ার সার্বিক খোঁজ-খবর নেন তারা। ৪. আমাদের রয়েছে এক ঝাঁক অনুপ্রাণিত শিক্ষক যারা কিনা অদম্য স্পৃহার সাথে পাঠ দান করে থাকেন। ৫. আমাদের প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব গভর্নেন্স-এর সদস্যরা অনেক বেশি কেয়ারফুল। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এই ৫টি বিষয়ের সমন্বয় করে চলার।
তিনি বলেন, অনেকে ভাবেন শহরের একটি প্রতিষ্ঠান গত ৪টি বছর ধরে সারাদেশের মধ্যে কিভাবে পাশের গড় আর জিপিএ–এর হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করে? এর জবাবে তিনি বলেন, আসলে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি শহরে হলেও এর প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ শিক্ষার্থী গ্রাম থেকে আসে। ক্লাশ সিক্স থেকে বেশি ভাগ গ্রামের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে। সুতরাং এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে প্রতিষ্ঠানটি শুধু শহুরে শিক্ষার্থীদের জন্য।
তিনি মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ভালো করার পিছনে মিডিয়ার প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান যখন ভালো রেজাল্ট করে তখন মিডিয়ার কর্মীরা আসেন। উল্লাশিত শিক্ষার্থীদের ছবি তোলেন। সাক্ষাৎকার ছাপেন। এতে নিচের ক্লাশের শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হয়। নিজেরাও ভালো রেজাল্ট করতে মরিয়া হয়ে পড়াশুনা করে।
ইমামুল হুদা আরও বলেন, আমরা আগামীতে যেন এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি সে জন্য শিগগিরই বৈঠকে মিলিত হবো।কিছু শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ বঞ্চিত হয়েছে সে কারণ খুঁজে বের করে আগামীতে পাশের হার ও জিপিএ-৫ শতভাগ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীই কি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো অভিভাবক চাইবেন না তাঁর সন্তান ফেল করুক। বরং জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য অভিভাবকরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। তবে যেসব শিক্ষার্থী সিলেকটিভ স্টাডি না করে বিস্তারিত পড়াশুনা করেছে সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা, জেইউ, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





