সিলেটেএমসি কলেজ ও সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ভর্তিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভতিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তারা অর্থ আদায় করেছে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের জন্য ক্যাম্পাসে তারা অস্ত্রের মহড়াও দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদা দিতে বাধ্য হন।
এমসি ও সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগের অপর অংশের নেতাকর্মী ও কলেজ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের নেতাকর্মীরা এই ভর্তি বাণিজ্য চালিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত টেলিটক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এমসি ও সরকারি কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন। ২২ জুন দুটি কলেজেই মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে এমসি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ৩০০ আসনের জন্য মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে সরকারি কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩০০ করে ৯০০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ওই তালিকা অনুযায়ী সরকারি কলেজে ২৩ জুন বিজ্ঞান, ২৪ জুন মানবিক ও ২৫ জুন ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া মেধা তালিকার যেসব শিক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে ভর্তি হতে পারেননি তাদেরকে ২৬ জুন ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। ওই দিন প্রথম ও দ্বিতীয় অপেক্ষমান তালিকাও প্রকাশ করা হয়। ওই অপেক্ষমান তালিকায় যারা সুযোগ পেয়েছেন তাদের ভর্তি ২৮ জুন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২৬ জুন প্রকাশিত তালিকা ছিঁড়ে ফেলেন সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একইভাবে এমসি কলেজের প্রথম মেধা তালিকা ছিঁড়ে ফেলে ছাত্রলীগ। তারা তালিকার বাইরে তাদের পছন্দের শিক্ষার্থী ভর্তি করতে শিক্ষকদের চাপ সৃষ্টি করেন।
এরপর থেকে প্রতিদিনই কলেজে মহড়া দিতে থাকেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু গ্রুপের নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়ে তারা ভতিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়ান। মেধা তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদেরকেও জিম্মি করে টাকা আদায় করে ছাত্রলীগ। এছাড়া টাকার বিনিময়ে অপেক্ষমান তালিকার পেছনে থাকা শিক্ষার্থীদেরও আগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। একাজে কলেজ দুইটির সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরও বাধ্য করেন তারা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর ভর্তি কার্যক্রমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের তালিকা অনুযায়ী ভর্তি জন্য শিক্ষকদের চাপ দিতে থাকে। কিন্তু তাদেরকে সে সুযোগ না দেয়া হলে তারা ক্যাম্পাসে এসে তালিকা ছিঁড়ে ফেলে এবং ভাংচুর করে থাকে। পরে তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়।
ঢাকা, ২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ





