মাদরাসা ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষক নিয়োগের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে বয়সসীমা না রেখেই ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কারিগরি ও মাদরাসা)-এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় বয়সসীমার বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সভা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদরাসা) রওনক মাহমুদ বলেন, “কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে বয়সসীমা ৩৫ বছর রাখা হচ্ছে। বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার মতোই থাকছে এতে। খসড়া চূড়ান্ত করার পর সচিব, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী অনুমোদন দিলে নীতিমালাটি জারি করা হবে।”
সম্প্রতি নীতিমালাটির খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তিনি বলেছিলেন, “কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগে বয়সসীমা রাখা হচ্ছে না। কারণ, সাধারণ শিক্ষার সাথে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষার পার্থক্য রয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্যই বয়সের বাধা রাখা হয়নি।”
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’জারি করে। ওই নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয় ৩৫ বছর। পাশাপাশি বদলির ব্যবস্থাও রাখা হয়।
কিন্তু ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কারিগরি ও মাদরাসা)-এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’চূড়ান্ত করা হয় বয়সসীমা নির্ধারণ না করেই। এতে বিতর্ক দেখা দেয়। প্রশ্ন ওঠে দেশের স্কুল কলেজের শিক্ষকদের নিয়োগ পেতে বয়স ৩৫ বছর থাকবে আর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের নিয়োগে কোনও বাধ্যবাধকতা থাকবে না সমমানের পদে নিয়োগে এই নিয়ম অনৈতিক।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারেনি কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক উঠলে তা পরিবর্তন করে নতুন করে বয়সসীমা ৩৫ আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ করা হচ্ছে নতুন করে। এতে চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা নির্ধারণ ছাড়া বদলির ব্যবস্থা থাকছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদ বলেন, “সরকার চাইলে যে কোনও সময় কোনও শিক্ষককে বদলি করতে পারবেন বদলি নীতিমালা করে।”
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) এ কে এম জাকির হোসেন ভুঞা বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয় নীতিমালাটি অনুমোদন দিয়েছে। মাদরাসা ও কারিগরির ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য আছে। সেগুলো ঠিক করে আগামী সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”
মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর থেকে জানা গেছে, দেশে মোট মাদ্রাসার সংখ্যা ৯ হাজার ১৩৭টি। মোট শিক্ষক ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৪৪ জন। এর মধ্যে দাখিল ও কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৭ জন, এবতেদায়ি শিক্ষক ৪ হাজার ৫২৯ জন এবং আইসিটি শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ২২৮ জন।
মোট মাদরাসার মধ্যে এমপিওভুক্ত দাখিল-কামিল মাদরাসা ৭ হাজার ৬১৮টি। অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র এবতেদায়ি এক হাজার ৫১৯টি।
সম্প্রতি অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫১৯টি মাদরাসা’সহ আরও বেশ কিছু মাদরাসা অনুদান না পাওয়া এবং নন-এমপিও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে।
এমবি





