ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদ্দাম হোসেন নামের এক মাদকাসক্ত ছাত্রের হামলার শিকার হয়েছে এক ছাত্রী।

মাদকাসক্ত ওই ছাত্রের উপর্যুপুরি কিল-ঘুষি ও বুটের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়। আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হামলার বিচার দাবিতে ওই ছাত্রী প্রক্টর ও বিভাগীয় সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। এদিকে ছাত্রীর উপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সাদ্দাম হোসেন ও তার বান্ধবী হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের ছাত্রী সেতু (ছদ্মনাম) কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠের পশ্চিম পাশে বসে গল্প করছিল।

এসময় কোন এক বিষয়ে দুজন বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। উপর্যুপুর কিল-ঘুষি আর বুটের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শুনে আশেপাশে থাকা সাধারণ ছাত্ররা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে সাথে থাকা গিটার নিয়ে অস্ত্র তাক করে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সাদ্দাম।

এসময় তারা ভয়ে দুরে দাড়িয়ে থাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে গেলে সাদ্দাম তাদেরকেও অস্ত্র তাক করে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে।

এসময় কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সাদ্দামকে ধাওয়া দিলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এদিকে এঘটনার পরপরই সহকারী প্রক্টর আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থলে এসে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী উকিল উদ্দিন ও কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বলেন-‘সাদ্দাম সবার পরিচিত কারণ তার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরী করে। মেয়েটাকে সে এমন ভাবে নির্যাতন করছিলো যে মেয়েটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল।

আমরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। তবে ঘটনার সময় সাদ্দাম নেশাগ্রস্থ ছিল বলে আমাদের মনে হয়েছে।’

এদিকে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজে সবাই ব্যস্ত থাকার সুযোগে ঘটনাস্থল থেকে সাদ্দাম পালিয়ে যায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ত ম লোকমান হাকিমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্রী নির্যাতনের মত একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয় প্রক্টরকে অবহিত করার পরেও তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন বা কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় সর্বস্তরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনর বিরুদ্ধে মাদকসেবন, ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহ, ইভটিজিংসহ নানা গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে। এদিকে সাদ্দাম হোসেনকে রক্ষা করতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উঠে পড়ে লেগেছে বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির নেতা তুর্কি ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজু গ্রুপের কর্মী বাংলা বিভাগের সাজ্জাদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ওই ছাত্রীকে নানা ভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে এসিডে ঝলসে ও ধর্ষণের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন-‘ছাত্রলীগের সাথে সাদ্দাম হোসেনের কোন সম্পর্ক নেই।

সে গান-বাজনা নিয়ে কাজ করে। তবে এধরনের পৈশাচিক বর্বরোতা কখনোই মেনে নেয়ার মত না। অপরাধী সে যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

এদিকে বেলা একটার দিকে ওই ছাত্রী হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, সাদ্দাম হোসেন ওই ছাত্রীকে বেধড়ক মারপিট করলে সে মারাত্মক আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে।

এসময় তার আত্ম-চিৎকারে আশেপাশের মানুষ তাকে উদ্ধার করে। অভিযোগ পত্রে আরো উল্ল্যেখ করা হয়েছে, চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে হলে ফেরার পর থেকে সাদ্দাম ও তার বেশকিছু সহযোগীরা বিভিন্ন মোবাইল ফোন থেকে ওই ছাত্রীকে হত্যার হুমকি ও এসিডে ঝলসে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এঘটনায় ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. ত ম লোকমান হাকিম বলেন-‘সাদ্দাম হোসেনর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভিকটিম নিজেই অভিযোগ পত্রটি আমার কাছে পাঠিয়েছে। এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য) অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর রহমান বলেন-‘ ‘বিষয়টি খুবই দু:খজনক যেটা মেনে নেওয়ার মত নয়। তাছাড়া এ অপরাধের কোন ছাড় দেয়া উচিতও নয়। আমি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রক্টরকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছি।

এসএইচ