[b]ঢাকা: [/b]দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ ভাগ শিক্ষার্থীই আবাসিক সুবিধাবঞ্চিত। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের (ইউজিসি) ৩৯তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে জমা দিয়েছে ইউজিসি। তাতে ২৮টি সুপারিশ করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৩৪টি। এরমধ্যে জাতীয়, উন্মুক্ত, জগন্নাথ, বেগম রোকেয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত বাকি ২৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট শিক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ২৭৮ জন।
এর মধ্যে আবাসিক সুবিধা ভোগ করেছে মাত্র ৬৩ হাজার ৬০৫ জন শিক্ষার্থী। যা শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ। আর ৬৮ ভাগই আবাসিক সুবিধা বঞ্চিত। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাননি। সর্বনিম্ন কম পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ ভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা ভোগ করেছেন।
সর্বোচ্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা ভোগ করেছেন। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ ভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা ভোগ করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ ভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬ ভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ ভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ ভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ ভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ ভাগ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ ভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ ভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ ভাগ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র ৪৩ ভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ভাগ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪ ভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৭ ভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ ভাগ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪ ভাগ, খুলনা  প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ ভাগ, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ ভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  ৫০ ভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ ভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ ভাগ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ ভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ ভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ ভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ৭ ভাগ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ ভাগ ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ ভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা ভোগ করেছেন। দেশের শিক্ষাবিদরা বলেছেন, সেশনজট, রাজনৈতিক দখলদারিত্ব, বিভাগ ও শিক্ষার্থী বৃদ্ধির তুলনায় হলের সংখ্যা বৃদ্ধি না পাওয়াই আবাসিক সঙ্কটের মূল কারণ। রাজনৈতিক কারণে অনেক ছাত্রনেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় সিট দখল করে থাকেন। এমনকি তারা হল ভাড়া পর্যন্ত দিয়ে থাকেন।
এছাড়া সেশনজটের কারণে এক শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই আরেক শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু হল না বাড়ায় শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা দেয়া সম্ভব হয় না। আবাসিক সুবিধা না থাকায় অনেক সময় গণরুমে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। এমনকি বারান্দায় পর্যন্ত ঘুমাতে হয়। ছারপোকার উৎপাত থেকে বাঁচতে অনেকে হলের মসজিদে ঘুমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শতভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা না পাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী হল নির্মাণ করতে না পারা। হল নির্মাণ করতে অনেক সময় লেগে যায়। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর অনার্সের ৪টি বর্ষ ও মাস্টার্সের একটি বর্ষে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পান। অধ্যাপক সিদ্দিক আরও বলেন, সেশনজটও আবাসিক সঙ্কটের কারণ হতে পারে। তবে এটা একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একেক রকম হিসাব হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিবছর যে বাজেট তৈরি করা হয় তার বেশির ভাগই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দিতেই চলে যায়। তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। কেননা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ালেখা করেন তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন। তারা আবাসিকতা না পেলে নানা সঙ্কটের মুখে পড়তে পারেন। খবর মানবজমিনের।